এই সময়: দেওয়া যাবে না খাবার। আপাতত বন্ধ থাকবে, রোজকার খাবার ডেলিভারি (Home Delivery)। ক্রেতাদের অনেককেই এই কথা জানিয়ে দিয়েছেন যাদবপুরের পল্লিশ্রীর বাবলা মজুমদার। প্রতি দিন দুপুরে অন্তত খান বিশেক বাড়িতে খাবার হোম ডেলিভারি করেন তিনি। দিন কয়েকের মধ্যেই খাবার দেওয়া বন্ধ করে দেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন সেই সব বাড়িতে। এই শহরে প্রতি দিন যাঁরা, খাবার হোম ডেলিভারি করেন, তাঁদের অনেকেই এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের (LPG CRISIS) সংকটের জন্য ক্রেতাদের জানিয়ে দিচ্ছেন, আপাতত হোম ডেলিভারি স্থগিত রাখার কথা।
বাবলা জানান, এই হোম ডেলিভারি করার জন্য মাসে তাঁর চারটি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। এই সিলিন্ডার দিয়েই পরিবারের রান্নাও হয়। তাঁর কথায়,‘গ্যাস সিলিন্ডারের যা অবস্থা, তাতে আমি আপাতত খাবার দেওয়া বন্ধ রাখব। তবু খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনে ব্যবসা করব না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, তারপরে ভাববো।’ বেহালার সরশুনার বাসিন্দা অমিতা রায়ও হোম ডেলিভারির ব্যবসা করেই সংসার চালান। সরশুনা এলাকায় প্রতি দিন দুই বেলা তিনি গড়ে চল্লিশটি পরিবারে খাবার ডেলিভারি করেন। এক দিকে যেমন ব্যবসা হয়, অন্য দিকে তাঁর পরিবারের রান্নাও এখান থেকেই হয়ে যায়। অমিতার কথায়, ‘বছর আঠেরো ধরে এই ব্যবসা করছি। খোলা বাজারে একটা সিলিন্ডার চাইছে দুই হাজার টাকা। তাই আপাতত পুঁজি ভাঙিয়ে বসে খাওয়া ভালো। পরের কথা পরে ভাবা যাবে।’
এই শহরে যাঁরা হোম ডেলিভারি করেন, তাঁদের অনেকেই জানান, হঠাৎ করে ‘না’ বললে, যাঁরা নিয়মিত খাবার নেন তাঁরাও বিপদে পড়ে যাবেন। তাই অপাতত স্টকে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার দিয়ে সামাল দেওয়া হচ্ছে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে আর রান্না করে সরবরাহ করা যাবে না। উত্তর কলকাতার পাইক পাড়ার বাসিন্দা শ্যামল সেন। স্বামী, স্ত্রী দুইজনেই কাজ করেন তথ্য প্রযুক্তি সংস্থায়। নিয়মিত দুই বেলার খাবার নেন হোম ডেলিভারি থেকে। শ্যামল বলেন,‘আমাদের বাড়িতে যিনি হোম ডেলিভারি করেন, তিনি জানিয়ে দিয়েছেন এই মাসের পরে আর খাবার দিতে পারবেন না।’ তিনি জানান, হোম ডেলিভারির খাবার না পাওয়া স্বামী–স্ত্রী দুইজনেই চাকুরিরত এমন পরিবারগুলোর খুব অসুবিধা হবে।
দীর্ঘ দিন ধরে হোম ডেলিভারির ব্যবসা করেন বেলেঘাটার সরকার বাজারের বাসিন্দা সোমেন শূর। তাঁর কথায়,‘আমি নিয়মিত ২৫ টি পরিবারে খাবার দিয়ে থাকি। আমার কাছ থেকে যাঁরা খাবার নেন তাঁরা মেনু কমিয়ে দিয়ে খাবার দেওয়ার অনুরোধ করছেন। সিলিন্ডারের দাম যেভাবে চড়ছে, তাতে মেনু কমিয়ে ব্যবসা চালালে লাভ হবে না।’ তিনি জনান, মেনু কমিয়ে ঘরের খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। ব্যবসা হয় না।