• ব্রিগেডে দিলীপের থেকে বিয়ের মিষ্টি খেতে চাইলেন মোদী, পাল্টা উত্তর দিলেন বিজেপি নেতা
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: বছর খানেক আগে বিয়ের ফুল ফুটেছিল দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। শনিবার ব্রিগেডের সভামঞ্চে দিলীপকে সে কথা স্মরণ করিয়ে মিষ্টি খেতে চাইলেন প্রধা‍নমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। জবাবে দিলীপও মুচকি হেসে মোদীকে আশ্বস্ত করলেন, ‘ভোট হয়ে যাক। তারপরে মিষ্টিমুখ হবে।’

    দিলীপের বিয়ের খবর পেয়ে ভুরু কুঁচকেছিলেন বিজেপির (BJP) অনেকেই। ঘনিষ্ঠ মহলে তাঁরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিলেন, ‘লোকটার উজ্জ্বল রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ছিল। এই বয়সে বিয়ে করে সেই সম্ভাবনায় নিজেই জল ঢাললেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।’ দিলীপ জানতেন, দিন চিরকাল কারও সমান যায় না। তাঁরও সময় আসবে। শনিবার ব্রিগেডের সভায় স্বয়ং মোদীই দিলীপের হয়ে নিন্দুকদের কড়া জবাব দিলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ দিন ব্রিগেডের সভা শেষে বেশ কিছুক্ষণ দিলীপের সঙ্গে হালকা ছলে কথা বলতে দেখা যায় মোদীকে।

    সেখানেই তিনি হেসে মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদকে বলেন, ‘বিয়ে করেছেন খবর পেয়েছি। কিন্তু মিষ্টি পাইনি। কবে খাওয়াবেন বলুন তো?’ দেশের প্রধানমন্ত্রী মিষ্টি খেতে চেয়েছেন, না করার তো প্রশ্নই ওঠে না। দিলীপ লাজুক হেসে নমোকে বলেন, ‘নিশ্চয়ই খাওয়াব। তবে বিধানসভা নির্বাচনের পরে। তখন বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার মিষ্টি আর আমার বিয়ের মিষ্টি একসঙ্গে হবে।’ মোদীও হেসে বলেন, ‘সেই কথাই রইল তবে।’ গেরুয়া শিবিরের একাংশের ব্যাখ্যা, বিজেপির রক্ষণশীল অংশ দিলীপের বিয়েকে সহজ ভাবে নিতে চাননি, তাঁদের মোদী বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন, দিলীপের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনের কোনও বিরোধ নেই। অবিবাহিত দিলীপের মতো বিবাহিত দিলীপও পার্টিতে একইরকম গ্রহণযোগ্য।

    তবে ২০২১–এর পরে গেরুয়া শিবিরে কোণঠাসা হয়ে পড়া দিলীপের গুরুত্ব অবশ্য আগেই বাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন শাহ। মাঝের দীর্ঘ সময়ে দিলীপকে ডাকা হতো না দলের বড় কোনও জনসভায়। তিনি ডাক পেতেন না দলীয় বৈঠকেও। ফলে দি‍লীপও নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন। মাস দুয়েক আগে কলকাতায় এসে শাহ দেখা করেন দিলীপের সঙ্গে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শও দেন। এরপরেই বঙ্গ–বিজেপিতে কার্যত দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন দিলীপ। শনিবার ব্রিগেডে বিজেপির মেগা শো–এর মঞ্চে দিলীপের জন্য বরাদ্দ ছিল চেয়ার। তিনি মঞ্চে উঠতে তা মাইকে ঘোষণাও করা হয়। ব্যাপক হাততালি পড়ে। সভায় ভাষণও দেন তিনি। চেনা স্টাইলে চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ দাগেন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু সব শেষে মোদীর মিষ্টি খেতে চাওয়া দিলীপের ‘কামব্যাক’কে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের ব্যাখ্যা।

  • Link to this news (এই সময়)