এই সময়: অযথা আতঙ্কিত হয়ে গ্যাস বুক করবেন না। দেশে রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত আছে। ––– কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারবার এই আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কালোবাজারি ঠেকাতে রাজ্য সরকারও নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এলজিপি গ্যাস (LPG GAS) গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিত্য নতুন তাঁরা নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন।
যেমন–গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকারী তিনটি রাষ্ট্রীয় সংস্থার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে একাধিক নম্বরে আছে। একটায় ফোন করলে, দু–তিনবার মিস কলেই ফোন কেটে গিয়ে বুকিং হয়ে যেত। আর একটা ফোনে রোবো কলের মাধ্যমে কনজ়িউমার নম্বরের লাস্ট চারটি ডিজিটের পরিচয় নিশ্চিত করে তিন দফায় এক টিপলে গ্যাস বুকিং হত। কিন্তু গত ১৪ দিনে সে সব লাটে উঠেছে। দিন–রাত নির্বিশেষে গ্রাম, শহর এবং শহরতলির আমজনতা দুটি ফোনেই অগুনতি ফোন করে চলেছেন। কখনও অপেক্ষাই সার। কখনও ফোনেই স্বয়ংক্রিয় ভাবে বলা হচ্ছে–এই নম্বরের অস্তিত্ব নেই। আবার কখনও বলা হচ্ছে–নেটওয়ার্ক পরিষেবার বাইরে। তার জেরেই সকাল হতে না হতেই গ্রাহকরা লাইন দিচ্ছেন ডিস্ট্রিবিউটারের অফিসের সামনে।
চিত্রটা বেহালা থেকে বৈদ্যবাটি একই। আবার কারও কারও ভাগ্যে লটারির টাকা লাগার মতো বুকিং নিয়ে ডিএসি নম্বর মিলছে। কিন্তু আট–দশদিন পরও ক্যাশ মেমো জেনারেট হচ্ছে না। এমনকী ক্যাশ মেমো জেনারেটের আগে যাঁদের কেওয়াইসি আপডেট করা নেই, তাঁদের সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটারই ফোন করছেন। গ্রাহক তড়িঘড়ি ডিলারের অফিসে গিয়ে বা সেখানে ভিড় থাকলে নিকটবর্তী সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে গাঁটের কড়ি খরচ করে একপ্রস্থ সার্ভারের সমস্যা কাটিয়ে সেই নথি আপডেট করছেন। বাড়িতে সিলিন্ডার পাওয়ার আশায়। কিন্তু কোথায় কী! কেওয়াইসি আপডেটের সাত–আটদিন পরও বিলই জেনারেট হচ্ছে না। আবার ক্যাশ মেমো জেনারেট হলেও গ্রাহকের বাড়ি সিলিন্ডারই আসছে না। ফলে চরম নাকাল হতে হচ্ছে গ্রাহকদেরই। সমস্যার কথা মানছেন অল ইন্ডিয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটার ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিজন বিশ্বাস। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গ্যাসের সমস্যা আছেই। সাপ্লাইও অন্য সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম। আবার বহু গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে একসঙ্গে ফোন করে গ্যাস বুক করতে চাইছেন। তাই এই হয়রানি হচ্ছে।’
কিন্তু সমাধান কোন পথে?
বিজনের আশ্বাস, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য্য ধরতেই হবে। শুক্রবার রাত ১১টা থেকে শনিবার সকাল ৪টে পর্যন্ত ইনডেনের ওয়েবসাইটও আপডেট করা হয়েছে। তাই এখন আগের তুলনায় সার্ভার অনেকটাই রি–কভারি হয়েছে। ৮৪৫৪৯৫৫৫৫৫–এই নম্বরে ফোন করুন। দু–তিনবার রিং হয়েই কেটে গেলে বুঝবেন গ্যাস বুুকিং হয়ে গিয়েছে। না হলে আবার চেষ্টা করুন।’
শহর ও শহরতলির গ্যাস সরবরাহকারীদের বক্তব্য, আতঙ্কে মানুষ সিলিন্ডার বুক করছেন। অথচ জোগান আগের চেয়ে বাড়েনি। বরং ৩০–৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। সেই কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে। আর বুকিংয়ের খোঁজ নিতে গ্রাহকরা চলে আসছেন ডিলারদের অফিসে। উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুরের ইনডেন গ্যাসের ডিলার রূপম সেন জানান, অন্য সময় আমাদের গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলো দিনে ১৮০০–২০০০ সিলিন্ডার দিত। এখন সেই সংখ্যা কমিয়ে ১০৫০ সিলিন্ডার দিচ্ছে। সবারই গ্রাহক অনুযায়ী কোটা বেঁধে দিয়েছে। তার ফলেই আমরাও গ্রাহকদের সিলিন্ডার সরবরাহ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি। তবে আতঙ্কের বুকিং আছেই। তাই ফোন, অনলাইন এবং ওয়েবসাইট––সব ক্ষেত্রেই বুকিংয়ে সার্বিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। সে জন্য অনেকেই অফিসে চলে আসছেন। তবে এই নিয়ন্ত্রণ না করলে, সমস্যা আরও তীব্র হত।’
দেশের পূর্বাঞ্চলে এইচপি গ্যাস ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সঞ্জয় আগরওয়াল বলেন, ‘গত কয়েকদিনের তুলনায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। আশা করছি, ৩–৪ দিনের মধ্যে সিলিন্ডার সরবরাহ ২৫ শতাংশ বাড়বে। তবে মন্ত্রক নানা শর্ত বাঁধার আগে গ্যাস ডিলারদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন ও ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে নিলে, অনেক পথ খুলে যেত। তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। কথা বললে, সেই সমস্যাগুলো এড়ানোই যেত।’