এই সময়, ময়ূরেশ্বর: আদিবাসী বৃদ্ধাকে ডাইনি অপবাদে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল গ্রামবাসীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর (Mayureshwar of Birbhum) থানার বেলিয়া আদিবাসী পাড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের নাম চুড়কি হেমব্রম (৬৭)। তাঁর তিন মেয়ে এবং এক ছেলে। সকলেই বিবাহিত। ছেলে–বৌমার সংসারে থাকতেন তিনি। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই মহিলা প্রায়ই নেশার ঘোরে বিড়বিড় করতেন। তাই দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ তাঁকে ডাইনি বলে অপবাদ দিয়েছিলেন। বছর দু’য়েক আগে গ্রামেরই বাসিন্দা শিবলাল কিস্কুর এক বৌমার পেটের রোগে মৃত্যু হয়। চুড়কি নাকি তাঁকে ডাইনি বিদ্যা প্রয়োগ করে মেরেছেন এমনই দাবি করেছিল শিবলালের পরিবার। তার পরে সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগেও চুড়কির উপরে হামলা হয়।
ঘটনার দিন রাতে ওই গ্রামে ছিল হোলির অনুষ্ঠান। গ্রামবাসীরা অধিকাংশই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সেই সুযোগে শিবলাল এবং তাঁর পরিবারের লোকেরা চুড়কিকে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন বলে অভিযোগ। চুড়কির ছেলে বচ্চনের দাবি, ‘শিবলালের পরিবারের লোকেরা মাকে ডাইনি বলে অপবাদ দিত। এর আগেও চড়াও হয়েছিল। কাল রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। প্রাণের ভয়ে আমরা গা ঢাকা দিয়েছিলাম। না–হলে আমাদেরও পিটিয়ে মেরে দিত।’ ময়ূরেশ্বর থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (Rampurhat Medical College and Hospital) পাঠিয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে গ্রামটি কার্যত পুরুষ শূন্য। মহিলারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় শিবলাল–সহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।