এই সময়, বর্ধমান: দোকান থেকে বিস্কুট কিনে খেয়েছিলেন বর্ধমানের হাটশিমুল এলাকার বাসিন্দা প্রকাশ চৌধুরী। সেই বিস্কুট যে রাতারাতি ভয়ঙ্কর সমস্যা খাড়া করে ফেলবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি!
দোকান থেকে সেই বিস্কুট খাওয়ার পরেই প্রকাশের অস্বস্তি শুরু হয়। প্রথম দিকে বিষয়টিকে সে ভাবে গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু দিন পাঁচেক পরেও গলায় অস্বস্তি অনুভব করায় তিনি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (Burdwan Medical College Hospital) বহির্বিভাগের নাক-কান-গলা বিভাগে (ইএনটি) (ENT) সমস্যার কথা বলেন। চিকিৎসকরা এক্স-রে করে চিহ্নিত করেন, গলার ভিতরে কিছু একটা আটকে রয়েছে। এর পরে তাঁর এন্ডোস্কোপিও করা হয়। কিন্তু সেখানেও স্পষ্ট হয়নি, ঠিক কী আটকে রয়েছে। থ্রিডি এক্স–রে করার পরে চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন, গলায় তার জাতীয় কোনও বস্তু আটকে রয়েছে। ১০ মার্চ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় প্রকাশকে।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ইএনটি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঋতম রায় বলেন, ‘এন্ডোস্কোপি করে যখন কিছু পাওয়া যায়নি, তখনই অনুমান করি বস্তুটি হয়তো খাদ্যনালী ফুটো করে অন্য দিকে সরে গিয়েছে। কারণ তার জাতীয় বস্তু হলে ঢোঁক গেলার সঙ্গে সঙ্গে সেটি আগের অবস্থান থেকে সরে যায়। অস্ত্রোপচারের সময়ে দেখা যায় বস্তুটি খাদ্যনালী ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়ে মেরুদণ্ডের হাড় (ভার্টিব্রা) ও খাদ্যনালীর মাঝখানে আটকে রয়েছে। অসংখ্য স্নায়ু ও গুরুত্বপূর্ণ শিরার মধ্যে থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বস্তুটি সফল ভাবে বের করে আনা হয়েছে। বর্তমানে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন।’
এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রকাশ। হাসাপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, ‘উনি আর ১-২ দিন দেরি করে হাসপাতালে এলে প্রাণ সংশয়ও হতে পারত। এই সমস্ত ক্ষেত্রে দ্রুত ওই বস্তুটি অবস্থা পরিবর্তন করে। অস্ত্রোপচারের পরে উনি এখন ভালো রয়েছেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবেন। আমাদের ইএনটি বিভাগের চিকিৎসকরা খুবই দক্ষতার সাথে অপারেশন করেছেন।’