এই সময়: বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) (SIR) প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) একটি মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করেছিল। গেরুয়া শিবিরের ‘অপপ্রচার’ প্রসঙ্গে এই ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বলেছিলেন, ‘আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না–থাকি, একটি কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে, ঘিরে ফেলে, এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। যদি নিজেদের তেরোটা বাজাতে না–চান, বিজেপির অপপ্রচারে কেউ ভুল বুঝবেন না।’
মমতার এই মন্তব্য নিয়ে বিজেপি রাজ্য নেতারা প্রশ্ন তুলেছিলেন আগেই। তৃণমূলনেত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শনিবার ব্রিগেডের সভা থেকে তাঁকে সরাসরি নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সাংবিধানিক পদে থেকে এই ধরনের মন্তব্য করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। ব্রিগেডের সভায় শনিবার মোদী জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘এখন তো এখানে (পশ্চিমবঙ্গে) খোলাখুলি হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখানে বলা হচ্ছে, একটি বিশেষ সম্প্রদায় আপনাদের সবাইকে খতম করে দেবে। সাংবিধানিক চেয়ারে বসে এমন হুমকি! কোটি কোটি বাঙালিকে খতম করে দেওয়ার কথা! এটা আপনার মুখে শোভা দেয় না। আমি প্রশ্ন করতে চাই, এই লোকগুলো কারা? যারা তৃণমূল সরকারের ইশারায় কোটি কোটি মানুষকে খতম করে দেবে। তৃণমূল এই হুমকির রাজনীতিকে হাতিয়ার করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী চড়া সুরে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করায় তৃণমূলও কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে। জোড়াফুলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব কমিউনিটি, সব ধর্ম, সব জাতির মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ওঁর (মোদী) মতো হিন্দুত্ববাদী নন। ওঁরা শুধু হিন্দুত্বের কথা বলেন। ওঁরা তো নাথুরাম গডসের লোক।’ বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বর বক্তব্য, ধর্নামঞ্চ থেকে একটি সম্প্রদায়ের উদ্দেশে যে ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, ভোটের সময়ে বিরোধীপক্ষকে একই ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এই ভাবে ভয়–ভীতির পরিবেশ রাজ্যে তৈরি করা হয়েছে।
মোদীর কথায়, ‘নির্বাচনে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হয়, সরকারের নীতির সমালোচকদের হুমকি দেওয়া হয়, মিডিয়াকে হুমকি দেওয়া হয়, বিপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়, এরা বাংলায় যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে তা পুরো দেশের জানা উচিত। এরা বলে তৃণমূলকে যে ভোট দেবে না— সে বাঙালি নয়। তৃণমূলকে ভোট না দিলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না। তৃণমূলকে বলছি, এই গুন্ডাগিরির দিন এ বার শেষ হতে চলেছে।’ তৃণমূল নেতৃত্ব পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, বিজেপি নেতাদের ভাষণে হরবখত বিদ্বেষের কথা শোনা যায়। দেশের সংখ্যালঘু থেকে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষকে গেরুয়া বাহিনীর বিদ্বেষের মুখে পড়তে হয়।
তৃণমূল ভবনে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর ১৭৩টি ভাষণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১০টি ভাষণ বিদ্বেষপূর্ণ, সংখ্যালঘুকে ছোট করা হয়েছে এবং মানব বিরোধী। ওই সংস্থা এটাও জানিয়েছে, এই ধরনের ভাষণ চলতে থাকলে ভারত ফ্যাসিবাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।’ গেরুয়া শিবিরের নেতাদের বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের কারণেই ভিন রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নিগ্রহ করা হচ্ছে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব বক্তব্য। ব্রাত্যর কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী ব্রিগেডে ভাষণ শুরু করেছেন বাংলা ভাষায়, ভাষণ শেষ করেছেন বাংলা ভাষাতেই। অথচ বাংলায় কথা বলার অপরাধে বিজেপি শাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে। বাংলাদেশে পুশ–ব্যাক করা হয়েছে।’