• মোদীকে বর্জনের বার্তা ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের
    আনন্দবাজার | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের আবহেই শহরের একটি কোণ অন্তত ভোটাধিকার হারাতে বসা সাধারণ মানুষের জ্বালা-যন্ত্রণাকে মেলে ধরেছে। পার্ক সার্কাস ময়দানে ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চের অবস্থানস্থল থেকে শুক্রবার রাতভর চলে প্রতিবাদের প্রস্তুতি। ধর্না মঞ্চেই অনেকে স্লোগান লেখেন, পোস্টার তৈরি করেন।

    শনিবারের কলকাতার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হেলিকপ্টার রেসকোর্সে নামার আগে থেকেই পার্ক সার্কাস ময়দানে জড়ো হয়েছিলেন প্রতিবাদীরা। তাঁরা সবাই মিলে মানববন্ধনে শামিল হতে চাইলে অবশ্য বাধা দেয় পুলিশ। কিন্তু ওই প্রতিবাদীদের দমানো যায়নি। বেলা ১২টা ২০ মিনিট থেকে ৪০-৪৫ মিনিট ধরে প্রতিবাদী মানববন্ধন পার্ক সার্কাস মোড়ের দখল নেয়। কালো পতাকা নেড়ে স্লোগান ওঠে,‘পুশ ব্যাক মোদী’। পোস্টারে মেলে ধরা হয়, ‘নাগরিকত্ব কাড়ল যারা / বাংলা থেকে তাদের তাড়া’! প্রতিবাদীদের পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কলেজশিক্ষক নওশিন বাবা খান বলেন, ‘‘পুশ ব্যাক বলার মধ্যে গরিব বাঙালিকে দেশছাড়া করার চেষ্টা এবং এসআইআর চক্রান্তের সুস্পষ্ট যোগ রয়েছে।ইচ্ছে করেই গো ব্যাক মোদী-র বদলে আমরা পুশ ব্যাক মোদী আওয়াজ তুলেছি।’’

    প্রতিবাদীদের মধ্যে অনেকে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ ছাত্র, এ ছাড়া, নানা বয়সের মানবাধিকার কর্মীরা পথে নেমেছিলেন। পার্ক সার্কাসের অবস্থান মঞ্চটি থেকে নানা ধরনের ছক-ভাঙা ঢঙে প্রতিবাদের আওয়াজ ক্ষমতাশালীদের কানে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেমন, একটি রেজ়িস্ট্যান্স চেয়ার-এর গায়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে সই করা যাচ্ছে। পার্ক সার্কাসের অবস্থান মঞ্চের পিছনে ‘মেমরি ওয়াল’-এ বিভিন্ন জাতি-ধর্মের প্রতিবাদীরা এই দেশ ঘিরে তাঁদের আবেগ, শিকড়ের কথা লিখছেন। যার মধ্যে নিহিত বার্তা, কোনও তালিকা বা নথিতে নয়, ‘দেশ আসলে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি’, ‘স্মৃতি দিয়ে ঘেরা’! আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক সাইফুল্লা, মানবাধিকার কর্মী বা রাজনৈতিক কর্মী নিশা বিশ্বাস, বিপ্লব মুখোপাধ্যায়, মিতালি বিশ্বাস, ঝিলম রায়, তমাল চক্রবর্তী প্রমুখ এ দিন পথে নেমেছিলেন। অনেকেই মনে করেন, কলকাতার বিভিন্ন মোড়েই এমন প্রতিবাদী সমাবেশ করতে পারলে ভাল হত।

    অবস্থান মঞ্চের কারও কারও নাম ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন। সাইফুল্লা বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সভার দিনটিই পার্ক সার্কাসের অবস্থান মঞ্চ থেকে সম্মিলিত বার্তার জন্য আমরা বেছে নিই।’’ দিনভর অনেকে রোজা করেছিলেন। সান্ধ্য ইফতার পর্যন্ত পার্ক সার্কাসের মাঠ থেকেই চলতে থাকে প্রতিবাদী কর্মসূচি।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)