• নির্বাচনের মুখে ফের দামোদরে স্থায়ী সেতু চেয়ে বিক্ষোভ
    আনন্দবাজার | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • স্থায়ী সেতুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করলেন দামোদর-বিহারীনাথ সেতু বন্ধন কমিটির সদস্যেরা। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে, স্লোগান তুলে ইস্কোর বার্নপুর টানেল গেটের সামনে চলে বিক্ষোভ। ইস্কোর প্রশাসনিক দফতরে গিয়ে কর্তৃপক্ষকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। দাবি একটাই— দ্রুত দামোদরের উপরে পাকা কংক্রিটের সেতু তৈরি করতে হবে।

    দামোদর নদের এক পারে পশ্চিম বর্ধমান। অন্য পারে বাঁকুড়া জেলা। দুই জেলার মানুষের একাংশের যাতায়াতের এক মাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় জল বাড়লে পারাপার দুঃসাধ্য হয়। স্কুলের পড়ুয়া, শিশু, কৃষক, শ্রমিক— সকলকেই অস্থায়ী সাঁকো পেরিয়ে যেতে হয়। এলাকায় পাকা সেতুর দাবিও পুরনো হয়ে গিয়েছে। ভোটের মুখে নেতাদের প্রতিশ্রুতি মেলে। কিন্তু, বাস্তবে কিছুই হয় না বলে অভিযোগ তাঁদের। সামনে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে স্থায়ী সেতুর দাবি ফের জোরাল হয়েছে।

    কমিটির সভাপতি সুবল চক্রবর্তী বলেন, “পাকা সেতুর দাবি আমাদের দীর্ঘ দিনের। বিভিন্ন আধিকারিকের কাছে গিয়েছি, আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু, কাজের কাজ কিছু হয়নি। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরও দায়বদ্ধতা আছে। তাঁরা এসেছেন, দেখেছেন, কিন্তু কোনও অগ্রগতি নেই। আমাদের আন্দোলন ধারাবাহিক ভাবে চলছে। দাবি না মানলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও জোরাল হবে।”

    মিছিলে যোগদানকারীরা হাতে নানা প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রতিবাদ জানান। একটিতে লেখা, ‘তোমার আমার সবার দাবি, সেতুই হোক উন্নয়নের চাবি, শিক্ষা-প্রগতি-স্বাস্থ্যের উন্নতি, দামোদর সেতু বিনে আছে কোন গতি?’ আরও লেখা ছিল, ‘বাঁচাতে গ্রাম জুড়তে শহর, বাঁধো সেতু দামোদর!’ দামোদরের এই অংশে পাকা সেতুর অভাবে দুই জেলার মানুষের দুর্ভোগ দীর্ঘ দিনের। বর্ষায় বাঁশের সেতু ভেসে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার সব কিছুতেই ভোগান্তি। কমিটির মতে, তাই এই আন্দোলন শুধু প্রতিবাদ নয়, জীবন-জীবিকার লড়াই। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও তীব্রতর হবে। যদিও ইস্কো কতৃপক্ষর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    সাধারণ সম্পাদক চন্দন মিশ্রের কথায়, ‘‘দামোদরের এক দিকে শালতোড়া বিধানসভা, আর এক দিকে, আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা। এই দুই বিধানসভার রাজনৈতিক দলগুলির কাছে আবেদন, তারা নির্বাচনী ইস্তাহারে দামোদরে পাকা সেতুর দাবিকে এক নম্বরে রাখুক।’’ তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, বাঁকুড়া-পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও জন প্রতিনিধিদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। সেল ইস্কো কর্তৃপক্ষকেও স্মারকলিপি দেওয়া হল।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)