ব্রিগেডমুখীদের উচ্ছিষ্টে ভরল রেল মিউজ়িয়ামের সামনের রাস্তা, ফুটপাত
আনন্দবাজার | ১৫ মার্চ ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পরিবর্তন সংকল্প সভায় যোগ দিতে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত দলীয় কর্মী এবং সমর্থকদের আসার বিরাম ছিল না। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্রিগেডমুখী বিজেপির নেতা-কর্মীদের জন্যে হাওড়া স্টেশন চত্বরে ছিল এলাহি ব্যবস্থা। দিনের শেষে রাস্তা জুড়ে তাঁদের উচ্ছিষ্টে সুসজ্জিত রেল মিউজ়িয়ামের সামনের রাস্তা বদলে হল ভ্যাট।
২০২১-এর ব্রিগেডের তুলনায় এ বার কর্মী যে বেশি হবে, আন্দাজ করেছিলেন বিজেপির হাওড়া সদরের জেলা নেতৃত্ব। ট্রেন থেকে নেমেই তাঁদের খানিকটা আরাম দিতে লঞ্চঘাটের দিকে স্বাগত মঞ্চ করা হয়েছিল। সেখান থেকে জেলা নেতৃত্ব নির্দেশ দিচ্ছিলেন নতুন কমপ্লেক্সের বাইরে উত্তরে চলে যেতে। বিশ্রামের জন্যে সেখানে গেরুয়া কাপড়ের কয়েকটি কিয়স্ক করে দু’টি বড় এয়ার কুলার লাগানো হয়েছিল।
ব্রিগেডের সভায় প্রায় ১ লক্ষ কর্মী হাওড়া থেকে যেতে পারেন ভেবে তাঁদের মধ্যাহ্ন ও নৈশভোজের রান্না করতে রেল মিউজ়িয়ামের পাশে সিপিটি কোয়ার্টাসের মাঠে প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট জায়গা ঘেরা হয়েছিল গেরুয়া-সাদা কাপড়ে। সেখানে চারটি ক্যাটারার দায়িত্বে ছিল। মেনুতে ছিল ভাল চালের ভাত, সঙ্গে ডালের মধ্যে মটর, কপি, আলু, গাজর ও বেগুন দিয়ে ওড়িশার বিশেষ পদ ডালমা ও আচার।
শনিবার কার্যত গোটা হাওড়া স্টেশন চত্বর বিজেপি কর্মীদের দখলে চলে যায়। দুপুরে রেল মিউজ়িয়ামের পাশে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ করে খাওয়াদাওয়া চলছে। রাস্তায় ভাতের থালা রেখে কেউ খাচ্ছেন, কেউ ফুটপাতে খাচ্ছেন। রাস্তা জুড়ে পড়ে উচ্ছিষ্টের থালা। সে সব পরিষ্কার করতে দলের তরফে উদ্যোগও দেখা যায়নি।
সেখানেই দেখা মিলল বিজেপির জেলা সদরের সভাপতি গৌরাঙ্গ ভট্টাচার্যের। তাঁর দাবি, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত এক লক্ষ কর্মী হাওড়া থেকে ব্রিগেডে গিয়েছেন। প্রত্যেককে খাইয়ে পাঠানো হয়েছে। ফেরার পথে তাঁরা খেয়ে বাড়ির পথ ধরবেন।
জেলা সভাপতি বলেন, ‘‘এত লোকের রান্নায় ন’টন বাসমতি চাল, ছ’টন ডাল আর প্রায় চার টন আনাজ এসেছে। মূলত বর্ধমান, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, বালুরঘাট, বীরভূম, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর, নদিয়া থেকেই হাওড়া দিয়ে ব্রিগেডে গিয়েছেন।’’ রাস্তা, ফুটপাত নোংরা করার প্রসঙ্গে জেলা নেতৃত্বের দাবি, রাতের মধ্যে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।