এই সময়, সিউড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Elections) আগে তৃণমূলের (TMC) বিরুদ্ধে 'বেআইনি' বালিঘাট চালানোর অভিযোগ তুলেছে বীরভূম বিজেপি (BJP)৷ দ্রুত জেলায় বেআইনি বালির খাদানগুলি (SAND MINE) বন্ধ ও বালির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে জেলাশাসককে চিঠি দিলেন বীরভূম বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বেআইনি বালির কারবার নিয়ে বীরভূমেও সিবিআই হানা দিক৷
বীরভূমের প্রতিবেশী জেলা পশ্চিম বর্ধমানে বেআইনি কয়লা ও বালির কারবার নিয়ে চলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) (ED) ও সিবিআই-এর (CBI) যৌথ তল্লাশি ও তদন্ত৷ বীরভূমেও এর দৌরাত্ম্যও নতুন কিছু নয়৷ এই জেলার অজয়, ময়ূরাক্ষী, কোপাই, দ্বারকা, বক্রেশ্বর, বাঁশলই, ব্রাহ্মণী, হিংলো নদ-নদী থেকে সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে বালি তোলা হয়, এরকম অভিযোগ বার বার উঠেছে৷ সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ভাবে নদীবক্ষে জেসিবি ও নৌকোয় যন্ত্রাংশ নামিয়ে তোলা হয় বালি, যা প্রশাসনিক নিয়ম বিরুদ্ধ৷ বিশেষত বীরভূমের ইলামবাজার, নানুর, লাভপুর, সিউড়ি, সাঁইথিয়া, ময়ূরেশ্বর, রামপুরহাটে বেআইনি বালিঘাটের সংখ্যা সর্বাধিক৷
জেলা বিজেপির অভিযোগ, এই জেলার বেআইনি বালির কারবার থেকেই নির্বাচনী প্রচারের খরচের একটা বড় অংশ জোগাড় করছেন তৃণমূল নেতারা। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'ভোটের আগে তৃণমূলের ফান্ড জোগায় এই বেআইনি বালির খাদানগুলি৷ অবিলম্বে এগুলো বন্ধ করতে হবে। জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছি। প্রশাসন ব্যবস্থা না-নিলে আমরা পথে নামব৷'
যদিও, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, 'কোনও রকম অন্যায়কে এখানে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না৷' অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, 'অভিযোগ করে দিলেই হয় না। প্রমাণ দিতে হয়। আসলে বিজেপি মিথ্যাচারের রাজনীতি করে।' বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ বলেন, 'পুলিশ জেলা জুড়ে নিয়মিত অভিযান করে। বেআইনি কিছু দেখলে কড়া ব্যবস্থা নেয়।'