এই সময়, বনগাঁ ও আমডাঙা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Elections)। তার আগেই তৃণমূলের (TMC) গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বনগাঁ (Bangaon) ও আমডাঙা। সংঘর্ষে জখম হলেন বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে এলাকার দখলদারি নিয়ে স্থানীয় যুব তৃণমূলের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীদের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে আমডাঙাতেও টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদের জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। দুটি ঘটনাতেই দু’পক্ষের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিড়ম্বনায় পড়েছে শাসকদল। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
বনগাঁ পুরসভার (Bangaon Municipality) ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কলঘাট এলাকায় পুরসভা পরিচালিত একটি শিশু উদ্যান রয়েছে। তার সঙ্গে একটি খেলার মাঠও আছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই খেলার মাঠ ও শিশু উদ্যানের দখলদারি নিয়েই দু’পক্ষের মধ্যে গন্ডগোলের সূত্রপাত। তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রেষারেষি চলছিল বনগাঁ শহর যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দত্ত এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রমিত ঘোষের অনুগামীদের মধ্যে। দোলের দিন সেই বিবাদ আরও বড় আকার নেয়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রমিতের অভিযোগ, স্থানীয় মাঠে শহর যুব তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের প্রশ্রয়েই সমাজবিরোধীরা অসামাজিক কাজকর্ম করে। তাতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষও ভীষণ অসন্তুষ্ট। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সোচ্চার হন। এর জন্যই তাঁর উপরে হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর লোকেদের পাল্টা অভিযোগ, প্রমিত ও তাঁর অনুগামীরা দোলের দিন স্থানীয় শিশু উদ্যানে বহিরাগত মহিলাদের নিয়ে এসে নোংরামি করেছেন। স্থানীয়রা এর প্রতিবাদ করায় পুরসভার পক্ষ থেকে শিশু উদ্যানের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার বদলা নিতেই তাঁদের উপরে আক্রমণ করা হয়েছে। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর নেতা ও কর্মীদের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগকে ঘিরে এ দিন দু’পক্ষ নিজেদের মধ্যে মারপিটে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। মারপিটে দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন জখম হন। ওই ঘটনার পর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি প্রমিত ঘোষ তাঁর অনুগামীদের নিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বনগাঁ থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান। প্রশান্ত দত্ত ও তাঁর অনুগামীরাও প্রমিত ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ জানান।
প্রমিতের দাবি, মাঠে অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রশান্ত ও তাঁর অনুগামীরা। তার প্রতিবাদ করাতেই এ দিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি যখন দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় তাঁকে এবং তাঁর অনুগামীদের বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনজন জখম হয়েছেন। জামা–কাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে।’ প্রশান্ত অবশ্য মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘দোলের দিন এলাকার পার্কে ওরা মহিলাদের নিয়ে নোংরামি করছিল। পাড়ার সবাই মিলে মাস–পিটিশন করায় পার্কটি বন্ধ করে দেয় পুরসভা৷ সেই আক্রোশে আমাদেরকে মারধর করেছে৷’ আমডাঙার দক্ষিণপাড়াতেও শাসকদলের দু’পক্ষের মধ্যে মারপিট, গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার রাতে। টাকা–পয়সা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিবাদের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় দু’পক্ষের মোট আটজন জখম হয়েছেন। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে আমডাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমডাঙা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও কোনও গ্রেপ্তারের খবর নেই।