• আঁধার নামতেই নদীপথে নৌকা করে এসে কোটি টাকার সামগ্রী লুঠ শহরে!
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • অর্পিতা হাজরা

    অষ্টাদশ তো বটেই উনবিংশ শতকেও শহরে–গ্রাম–মফসসলে জলপথে হানাদারির অনেক কাহিনি রয়েছে। কিছু কিছু তো ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। তা বলে, ২০২৬–এ ‘জলদস্যুর হানা’! (Pirate Attack) তা–ও খোদ কলকাতা শহরে! পিলে চমকে দেওয়ার মতো হলেও, এটাই সত্যি। তবে জলদস্যু নয়। জলপথে হানা দিচ্ছে ছিঁচকে চোর। অবশ্য কোটি টাকার মাল যারা সরিয়ে ফেলেছে, তাদের ছিঁচকে চোর বলা যায় কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় আছে। তবে সে সংশয় থাকলেও নদীপথে লুট কিন্তু ঘোর বাস্তব।

    উত্তর কলকাতার কাশীপুরে গঙ্গার ধারে রয়েছে সিইএসসির (CESC) গুদাম। গুদামটি বেশ বড়সড় জায়গা নিয়ে। কাশীপুরে সিইএসসির অফিস কাম গোডাউনের পিছন দিয়েই বয়ে গিয়েছে গঙ্গা। আশপাশে ঝোপ–জঙ্গলে ভরা। চট করে সেখানে সাধারণ মানুষের পা পড়ে না। বিশেষ করে সূর্য ডোবার পরে তো নয়ই। ওই গোডাউনে বিভিন্ন রকমের কেবল, তামার তার, পোল, হাইটেনশন লাইন তৈরির জন্য বিভিন্ন রকমের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সামগ্রী মজুত করে রাখা থাকে। যার বাজারমূল্য কয়েকশো কোটি টাকা।

    অভিযোগ, সেই গোডাউনে রাতের পর রাত হানা দিয়ে লাখ লাখ নয় একেবারে কোটি কোটি টাকার জিনিস চুরি হয়ে গিয়েছে। সন্ধ্যা নামতেই অন্ধকারে নদীপথে নৌকা বা ডিঙিতে চেপে তারা আসে। আবার কখনও ভাটার সময়ে চড়া পড়লে গঙ্গার পাড় ধরেও পায়ে হেঁটে চলে আসে। তারপরে মালপত্র নৌকায় চাপিয়ে চম্পট দেয়। এক একটি দলে জনা পনেরো করে লোক থাকে। পুলিশি তথ্য বলছে, জলপথে হানার নেপথ্যে রয়েছে মাদকাসক্তদের এক বা একাধিক চক্র। এত বড় গুদাম পাহারার জন্য রয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী। এ দিকে মাদকাসক্তদের কাছে থাকে ব্লেড, খুর, ছুরি, ভোজালি। বাধা দিতে গেলে নেশার ঘোরে প্রহরীদের নির্দ্বিধায় আঘাত করতে যারা দু’বার ভাবে না।

    ২১ জানুয়ারি কাশীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সিইএসসি–র ডেপুটি ম্যানেজার পদমর্যাদার এক কর্তা। অভিযোগ, ১৯ জানুয়ারি ওই গুদাম থেকে চুরি গিয়েছে ১ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা মূল্যের সামগ্রী। গোপীনাথ সাউ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশেরই একটি সূত্র বলছে, এর পিছনে রয়েছে বিরাট চক্র। এ এক–দু’দিনের কাজ নয়। দীর্ঘ দিন ধরে এ ভাবেই চুরি হচ্ছে বিদ্যুৎ সরঞ্জাম। এই চক্রে জড়িত মাদকাসক্তরা নর্থপোর্ট থানা এলাকার জ্যোতিনগর কলোনি, ভূতনাথ মন্দিরের আশপাশের বস্তি, কাশীপুরে ৯৬ ও ৯৯ বস্তির বাসিন্দা বলে পুলিশের দাবি।

    চোরাই জিনিস জ্যোতিনগর কলোনির মূলত বড় দুই ‘রিসিভার’ কিনে নেয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এদের একজন মহিলা, আর একজন হাফিজ়ুল রহমান। হাফিজ়ুল আগে গ্রেপ্তারও হয়েছে। এখন জামিনে বাইরে। এদের বাইরে আরও কিছু রিসিভার রয়েছে। চুরির জিনিস কে আগে কিনবে তা নিয়ে লাগাতার লড়াই চলে এদের মধ্যে। পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘অতীতে ওই গুদামে চুরি করতে গিয়ে তড়িদাহত হয়ে কয়েক জন মারাও গিয়েছে। পুলিশের খাতায় এ ধরনের চুরির প্রচুর অভিযোগ জমা পড়েছে। ২০২৩–এ ১ কোটি ৫০ লক্ষ কোটি চুরির অভিযোগ দায়ের হয়।’ সিইএসসি-র এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘জানুয়ারির ঘটনার পরে আমরা কাশীপুর স্টক ইয়ার্ডে থাকা বাকি জিনিসপত্র অন্য স্টক ইয়ার্ডে সরিয়ে নিয়েছি।’

  • Link to this news (এই সময়)