• টলিপাড়ায় থ্রেট কালচার নিয়ে দেবের নিশানায় স্বরূপ বিশ্বাস, পাল্টা সওয়াল ফেডারেশন সভাপতির
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: টলিউডের (Tollywood) অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ এবং ‘থ্রেট কালচার’-এর মতো শব্দবন্ধ। এ বার সেই কথাই শোনা গেল তৃণমূলের অভিনেতা-সাংসদ দেবের বক্তব্যে। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে চাইলেও নাকি জুটছে বয়কটের ফতোয়া! সেই থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে কার্যত তোপ দাগলেন দেব। স্টুডিয়োপাড়ায় এখন একটাই চর্চা— সিনেমা টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে ফেডারেশনের সঙ্গে দেবের (Dev) এই বেনজির সংঘাত কতদূর এগোবে? শনিবার টলিপাড়ার টেকনিশিয়ানদের সংগঠন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের নাম করে কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন দেব। এমনকী, টালিগঞ্জের স্টুডিয়ো পাড়ায় ‘থ্রেট কালচার’ ও ‘ব্যান সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে তিনি দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) চিঠি লিখেছেন বলেও দাবি করেছেন। স্বরূপের নাম করে তৃণমূল (TMC) সাংসদের কটাক্ষ, ‘স্বরূপ ইন্ডাস্ট্রিতে কত বড় নাম জানেন তো!’

    এ দিন দেব বলেন, ‘স্বরূপ বিশ্বাস বলছেন স্বাস্থ্যসাথী ভালো নয়, অন্য প্রকল্প আরও ভালো। এর উত্তর দিতে পারেন অরূপ বিশ্বাস (অরূপ সম্পর্কে স্বরূপের দাদা)। তিনি রাজ্যের মন্ত্রী, ১৩-১৪ বছর ধরে মন্ত্রী আছেন এবং স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের হয়ে গ্রামে গ্রামে প্রচার করেছেন। তাঁর ছোট ভাই যদি এখন বলেন, স্বাস্থ্যসাথী ততটা ভালো নয়, তা হলে এর জবাব তাঁরই দেওয়া উচিত।’ যদিও স্বরূপের পাল্টা চ্যালেঞ্জ, ‘দেববাবুকে আমার প্রশ্ন, কোথায় আমি স্বাস্থ্যসাথীর প্রকল্প খারাপ বলেছি তিনি কি দেখাতে পারবেন? কোনও বিবৃতি কোনও ই–মেল বা কিছু? আমরা যদি বাধা দিতাম, তা হলে কি টেকনিশিয়ানরা স্বাস্থ্যসাথী ক্যাম্পে যেতেন?’

    পাশাপাশি দেব এ দিন দাবি করেছেন, তাঁকেও নাকি ‘ব্যান’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে দমে না গিয়ে তাঁর স্পষ্ট জবাব, ‘মানুষের ভালোর জন্য যদি ব্যানড হতে হয়, তাতেও আমি পিছপা হবো না।’ স্বরূপ দাবি করেছেন, কিছুদিন আগে যখন ১৫ জন প্রযোজক, পরিচালক মিলে কলাকুশলীদের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন, সেটা কি ব্যান বা থ্রেট কালচার নয়? তাঁর প্রশ্ন, ‘তখন দেব যদি টেকনিশিয়ানদের হয়ে কিছু বলতেন, তা হলে তাঁরা খুব খুশি হতেন। কিন্তু তখন তো কিছু বলেননি। কেন?’

    এই ঘটনার সূত্রপাত কিছুদিন আগে। ফেডারেশনের অধীনে থাকা প্রায় সাত হাজার টেকনিশিয়ান আগে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার একটি মেডিক্লেম পেতেন। চলতি আর্থিক বছরে আচমকাই সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েন বহু কর্মী। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে গত ৭ মার্চ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন দেব। টেকনিশিয়ানদের দ্রুত ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় আনার আবেদন জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকেত মিলতেই ১৪ মার্চ, টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে বসে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড তৈরির বিশেষ ক্যাম্প। আর তাই নিয়েই নতুন করে টলিপাড়াতে শুরু হয়েছে দ্বৈরথ!

    এ দিন সকাল থেকেই স্টুডিয়োতে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও কর্মীদের মনে ছিল চাপা আতঙ্ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মী জানান, এই ক্যাম্পে যোগ দিলে পরের দিন থেকে কাজ না পাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে কড়া উত্তর দেন দেব। তিনি আরও জানান, স্বরূপ বিশ্বাসকে তিনি ই–মেল করে এই ক্যাম্পে থাকার অনুরোধ করেছিলেন। দেবের কথায়, ‘তিনি তো ফেডারেশনের সদস্য। তাঁর এখানে থাকা উচিত ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসাথীর ১৪ জনের একটি দল পাঠানো হয়েছে, আর তিনি সেই উদ্যোগেরই বিরোধিতা করছেন। আপনার বাড়িতে যখন একাধিক নেতা-মন্ত্রী আছেন, তখন মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়াবেন না।’ যদিও স্বরূপের দাবি, অনেক রাতে ই–মেল আসায় এবং শনিবার অন্যান্য নানা ব্যস্ততা থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, ‘দেববাবুকেও তো আমরা নানা অনুষ্ঠানে থাকার আমন্ত্রণ জানাই, তিনি সব অনুষ্ঠানে থাকেন?’

    এ দিন গোটা প্রক্রিয়ার তদারকি করতে নিজেই স্টুডিয়োতে হাজির থেকে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন দেব। সাংসদ-অভিনেতার কথায়, ‘এসি ঘরে বসে দাদাগিরি করা সহজ। স্বরূপ বিশ্বাসের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের দরকার নেই, কারণ তাঁর যথেষ্ট আয় আছে। দাদা তাই এর মর্ম বোঝেন না। কিন্তু টেকনিশিয়ানদের সংসার চলে শুটিংয়ের টাকায়, তাই তাঁদের এই সুবিধা খুব প্রয়োজন।’ সাধারণ কর্মীদের আশ্বস্ত করে দেব জানান, সরকার সব সময়ে তাঁদের পাশে আছে।

    যদিও দেবের এই বক্তব্য খণ্ডন করে স্বরূপ বলেন, ‘আমার এবং পরিবারের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিমা আছে বলেই আমরা স্বাস্থ্যসাথী করিনি। কিন্তু দেববাবুর কি স্বাস্থ্যসাথী রয়েছে? তিনি কি স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করাতে কখনও লাইনে দাঁড়িয়েছেন?’ দেবকে আরও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, ‘দুয়ারে সরকারে যখন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প শুরু হলো, তখন আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই প্রকল্পের আওতায় মানুষকে সংযুক্ত করেছি। দেববাবু কি কখনও তেমন করেছেন? আমার জানা নেই।’ এসি ঘরে থাকা নিয়ে স্বরূপের সংযোজন, ‘আমাকে যাঁরা চেনেন, তাঁরা জানেন যে আমি হেলমেট মাথায় দিয়ে বাইকে করে ঘুরে বেড়াই। আমাকে নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে থাকেন না। এসি বাড়ি বা গাড়ি থাকা অন্যায় নয়। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ কখনও কাম্য নয়। কারণ, দেব আমাদের সকলের গর্ব!’ এ বিষয়ে স্বরূপের দাদা তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে বার বার ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা সত্ত্বেও তাঁর কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)