• ল্যাংচা, মিহিদানার পর সঙ্কটে জলভরা সন্দেশও, ক্রেতার হাতে তুলে দিতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, চন্দননগর: জলভরা সন্দেশ (Jolvora Sandesh) নিয়ে লোকমুখে নানা কথা ছড়িয়ে আছে ইতিহাসের পরতে পরতে। সেই কারণেই খাদ্য রসিকদের কাছে জলভরা সন্দেশের আলাদা কদর। কিন্তু বাণিজ্যিক গ্যাসের আকালে জলভরা সন্দেশের স্বাদে ছেদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে গ্যাসের পরিষেবা থমকে গেলেও, বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করে, ঐতিহ্যের জলভরা ক্রেতার হাতে তুলে দিতে চাইছে চন্দননগরের প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান।

    ১৮১৮ সালে চন্দননগরে জলভরা তৈরি করেন সূর্য মোদক (Surya Modok)। ‘জামাই ঠকানো মিষ্টি’ নামে পরিচিত ছিল এই তালশাঁস আকৃতির সন্দেশ। উপরে কড়া পাকের সন্দেশ, ভিতরে রসভরা। খেতে সুস্বাদু থাকেও অন্য মিষ্টির থেকে বেশি দিন। সেই মিষ্টি দুই শতবর্ষ পেরিয়েছে। এখনও সমান চাহিদা।

    মধ্য এশিয়ায় যুদ্ধের (West Asia War) কারণে জ্বালানি গ্যাসে টান পড়েছে। আর তার সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে হেঁসেলে। হোটেল, রেস্তোরাঁর পাশাপাশি, মিষ্টির দোকানগুলোয় প্রতি দিনের মিষ্টি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক নামী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী জলভরা সন্দেশ তৈরি করেন সূর্য মোদকের বংশধর শৈবাল মোদক। তিনি জানান, মাসে পাঁচটা কমার্শিয়াল সিলিন্ডার লাগে তাঁর কারখানায়। সেখানে একটা সিলিন্ডারে কাজ চলছে এখন। গ্যাস শেষ হয়ে গেলে কী হবে, সেটাই হচ্ছে সমস্যা।

    তাঁর ব্যবসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে বহু মানুষ যুক্ত। তাঁদের কথাও ভাবতে হচ্ছে। কেন্দ্র সরকার এই সঙ্কটকালে ডিজেল এবং কেরোসিন ব্যবহারের উপরে ছাড় দিয়েছে। শৈবাল বলেন, ‘আমরা গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ডিজেলের উনুন ইনস্টল করছি। অন্য মিষ্টি, বিশেষ করে রসের মিষ্টি আর তৈরি করা যাবে না এই সময়ে। জলভরাটা যাতে বন্ধ না হয়, সেই চেষ্টা করব। যাঁরা মিষ্টি কিনতে আসেন এই দোকানে, তাঁরাও বলছেন, জলভরা আর চন্দননগর সমার্থক। তাই সেই মিষ্টি যাতে মানুষ পান, সেটা দেখা উচিত।’

  • Link to this news (এই সময়)