• প্যানেল প্রকাশের পরেও একাদশ–দ্বাদশে দুই ‘দাগি’, নবম–দশমের তালিকা বদল
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাদশ–দ্বাদশে প্যানেল ইতিমধ্যে প্রকাশিত। এমনকী প্রথম ধাপে কয়েকশো চাকরিপ্রার্থীকে স্কুলে নিয়োগের সুপারিশপত্রও দেওয়া হয়েছে। তার পরেও তালিকায় ২০১৬–র ‘দাগি’ বা টেন্টেডদের চিহ্নিত করছে এসএসসি! শুক্রবার রাতে একাদশ–দ্বাদশের কম্পিউটার সায়েন্স ও ভূগোলের দুই ‘দাগি’ প্রার্থীকে চিহ্নিত করে তাঁদের প্যানেল থেকে বাদ দিয়েছে এসএসসি। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন ‘যোগ্য’ চাকরিহারারা।

    তাঁদের আশঙ্কা, প্যানেল প্রকাশের আগে পর্যন্ত কমিশন তিন দফায় নথি যাচাই করেছে। তার পরেও কেন ‘দাগি’দের নাম প্যানেলে উঠছে! ২০১৬–র নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল, আগের দফার কোনও ‘দাগি’ প্রার্থী নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেই প্রক্রিয়া নিশ্ছিদ্র হচ্ছে না। নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্বে এসেও নতুন করে ‘অযোগ্য’দের নাম প্রকাশ করছে এসএসসি।

    শুক্রবার নতুন এমন মোট ১৬ জনের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তার মধ্যে একাদশ–দ্বাদশের দু’জন ছাড়া নবম–দশমের চাকরিপ্রার্থী ১৪ জন। নবম–দশমে অবশ্য কমিশন এখনও নথি যাচাই শুরু করেনি। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬–র নিয়োগ প্যানেল পুরো বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। এক ধাক্কায় চাকরি হারিয়েছিলেন ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মী। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, ‘দাগি’ চিহ্নিতদের বেতনও ফেরত দিতে হবে। প্রসঙ্গত, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে চিহ্নিত ‘দাগি’র সংখ্যা ১৮০৬ জন। আর দাগি শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা ৩৫১২ জন।

    নবম–দশমের ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষক ও নতুন নিয়োগ–প্রক্রিয়ায় নথি যাচাইয়ে ডাক পাওয়া রাকেশ আলম বলেন, ‘এসএসসি যে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাগিদের ধরতে চেষ্টা করছে, সেটা সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু এর আগে তিন দফায় আধিকারিকরা যে যাচাইয়ের কাজ করেছেন, তাতে গাফিলতি স্পষ্ট। না হলে প্যানেল প্রকাশের পরেও একাদশ–দ্বাদশে দু’জন দাগি ধরা পড়তেন না।’ এসএসসি–র সচিব বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, এই ১৬ প্রার্থীর নাম আগেই চিহ্নিত ‘দাগি’র তালিকায় ছিল। সিবিআইয়ের যাচাই করা ওএম‌আর শিট-এ ‘মিস ম্যাচ’ তালিকায় ছিল বেশির ভাগের নাম। অথচ তাঁরা ২০২৫-এর নিয়োগ পরীক্ষায় বসেছিলেন। এঁদের চিহ্নিত করে প্যানেল থেকে বাতিল করা হয়েছে। কেউ নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় যোগ দিয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। গত নভেম্বরে একাদশ-দ্বাদশে নিয়োগ পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পরে দেখা গিয়েছিল, অনেক ‘অযোগ্য’র নাম রয়েছে পরীক্ষার্থী হিসাবে। সেই সময়েও ২৬৯ জনকে চিহ্নিত করে বাদ দিয়েছিল কমিশন।

    এ দিকে, কলকাতা হাইকোর্টের (High court) নির্দেশ মেনে প্রার্থীদের ‘ক্যাটিগরি’ বা জাতিগত শংসাপত্র পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছিল এসএসসি। ফলে নবম–দশমে শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ তালিকায় বড় রদবদল ঘটেছে। নতুন করে ১৬৫ জন ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পেলেও বাদ পড়লেন ১৪০ প্রার্থী। কমিশন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নবম-দশমে ৩৯০ জন সাধারণ প্রার্থী, তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম প্রার্থীর বিভাগ আপডেটের ফলে ১৪০ জনের কাট অফ নম্বর কমেছে। ফলে তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন নতুন ১৬৫ জন প্রার্থী।

  • Link to this news (এই সময়)