এই সময়, বর্ধমান: গ্যাসের আকালে ইতিমধ্যেই রামকৃষ্ণ সেবা সঙ্ঘ, তারাপীঠ (Tarapith) থেকে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দেবীর ভোগ বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখনও প্রতিদিন সকালে–সন্ধ্যায় ১২০০ জনের খাবারের ব্যবস্থা করছে বর্ধমানের কাঞ্চননগরে রথতলার কঙ্কালেশ্বর কালীবাড়ি আশ্রম ট্রাস্ট কমিটি (Kankaleshwar Kalibari Ashram Trust Committee)। তাও এক অভিনব প্রযুক্তি ব্যবহার করে।
আশ্রমে ১০ টাকার বিনিময়ে দুপুরের মেনুতে থাকছে ভাত, ডাল, একটা ভাজা, দু'ধরনের সব্জি, চাটনি ও মিষ্টি। আর রাতের মেনুতে পাঁচ টাকায় থাকছে ভাত অথবা রুটি, ডাল, একটা সব্জি ও মিষ্টি। দুপুরে রোজ ৮০০–৮৫০ জন ভোগ খান। রাতে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন। এ ছাড়াও যাঁদের রান্না করার ক্ষমতা ও সামর্থ নেই, এখান থেকে তেমন প্রায় ১০০টি বাড়িতে এই খাবার হোম ডেলিভারি করা হয়। রবিবার প্রসাদ খাওয়ার লোকের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়।
কিন্তু গ্যাসের এই প্রবল সঙ্কটে কী ভাবে হচ্ছে এত লোকের রান্না! আশ্রমের রান্না ঘরে ঢুঁ দিয়ে দেখা গেল, পেল্লায় আকারের একটি স্টিম স্টোরেজ। তার পাশে রাখা একটি বাক্স। সেখানে ছোট ছোট কাঠ ঢুকিয়ে দিচ্ছেন এক জন। দাউদাউ করে জ্বলছে। কোথাও কোনও ধোঁয়া নেই। ঝাঁ চকচকে চেহারা রান্নাঘরের। পাশে থাকা স্টিমের স্টোরেজ থেকে গ্যাসের লাইনের মতো পাইপ দিয়ে চলে যাচ্ছে সেই স্টিম। আর সেই স্টিমের উনুনে হচ্ছে রান্না।
আশ্রম ট্রাস্ট কমিটির সভাপতি ও বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাস বললেন, 'বেঙ্গালুরুর একটি মন্দিরে এই প্রযুক্তি দেখেছিলাম। পরে সেখানে লোক পাঠিয়ে বিস্তারিত জেনে নিই। তার পরে আমরা এখানে এই কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে স্টিমের সাহায্যে রান্না শুরু করি, খরচ হয় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা।' তিনি আরও বললেন, 'গ্যাস সিলিন্ডারের কানেকশন আমাদের নেওয়া আছে। সে ভাবে ব্যবহার করতাম না আগে থেকেই।' কমিটির সম্পাদক মানিক দাস বললেন, 'আমাদের কয়েক জন ভেন্ডার কাঠ সাপ্লাই দেন। অনেকে তাঁদের বাড়ির কোনও গাছ নষ্ট হয়ে গেলে বা মরে গেলে মায়ের মন্দিরে দান করেন। সেটাও আমরা ব্যবহার করি। এ ভাবেই চলে যাচ্ছে প্রতিদিন।'