নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডিম ভাত ৫০ টাকা। বিজেপির ব্রিগেডে টেবিল পেতে বড়ো বড়ো পাত্রে বিক্রি হচ্ছে এই আমিষ আহার। চেয়ার-টেবিলে বসে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা পেট ভরে খেয়েছেন। কেউ এসে বললেন, ‘এখানেও ডিম-ভাত!’ অন্যান্যরা শুনে বললেন, ‘খাবারে আবার বিভাজন কিসের? শুধু ডিম-ভাত নয় ব্রিগেডজুড়ে প্রচুর বিক্রি লস্যি, লজেন্স, লেবু জল, ভেলপুরির। ব্রিগেডের চিরাচরিত চরিত্র অনুযায়ী, হাফ প্যান্ট, জুতো, ব্যাগ নিয়েও বসেছিলেন বিক্রেতারা। সেসব দেদার কিনলেন অনেকে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সভা বলে সভামঞ্চের আশপাশে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। প্রবেশ করতে মানতে হয়েছে পুলিশের প্রোটোকল। নিরাপত্তার কারণে পুলিশ খুঁটিয়ে কর্মী-সমর্থকদের ব্যাগের ভিতর পরীক্ষা করেছে। জলের বোতল বাতিল করা হয়েছে। পতাকার মোটা লাঠি নিয়েও ঢুকতে দেওয়া হয়নি হেভিওয়েট নেতাদের নিরাপত্তায়। এত নিয়মকানুন বিজেপির বহু কর্মীর পছন্দ হয়নি। তাঁরা ক্ষুব্ধ। ভিতরে না ঢুকে গজগজ করে বাইরে বসলেন। কেউ চিৎকার করে পুলিশকে বললেন, ‘আমাদের পার্টি কী নির্দেশ দিয়েছে, আমরা জানি। আপনাকে বলতে হবে না।’ পুলিশ বচসায় জড়ায়নি। রোদের মধ্যে গরম লেগেছে অনেকের। গলা শুকিয়ে গিয়েছে। গলা ভেজানোর ব্যবস্থা কম ছিল না। লেবু জল থেকে লস্যি, আইসক্রিম সবকিছুই ছিল। জেলা থেকে আসা কর্মী-সমর্থকরা বাড়ির জন্য জিনিসপত্র কিনলেন। মেদিনীপুর থেকে আসা এক বিজেপি সমর্থক বললেন, ‘বাড়িতে কিছু না নিয়ে গেলে, মেয়েটা অভিমান করবে। তাই একটা জামা কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’ আবার উত্সাহী লোকজনের ভিড়ও কম ছিল না। কেউ রাম সেজে এসেছিলেন। তীর ধনুক আকাশে তাক করে ছবিও তুললেন। আবার কেউ সেজে এসেছিলেন ব্রহ্মা। এসেছিলেন ছবি বিক্রেতারা। অটলবিহারী বাজপেয়ি থেকে রামচন্দ্র, সকলের ছবিই ছিল। তবে বিক্রেতাদের বক্তব্য, ‘ছবি বিক্রি ভালো হয়নি। খাবারই বেশি বিক্রি হয়েছে।’