• তৃতীয় লিঙ্গের প্রাথমিক স্কুল পড়ুয়াদের পৃথক পরিচয়পত্র, ১৫ দিনেই পালটে যাবে নথি, নির্দেশ শিক্ষাদপ্তরের
    বর্তমান | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আবেদনের ভিত্তিতে প্রাথমিক স্কুলের তৃতীয় লিঙ্গের পড়ুয়াদের পৃথক পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। স্কুলশিক্ষা কমিশনারের তরফে সমস্ত ডিপিএসসি চেয়ারম্যান এবং ডিআই-কে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে ট্রান্সজেন্ডার আইডেন্টিটি কার্ডটি ইস্যু করবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের মেম্বার সেক্রেটারি বা সদস্য সচিব। জেলাগুলির ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে জেলাশাসকদের। স্কুলের মাধ্যমেই আবেদন জানানো যেতে পারে।

    রাজ্যের মহিলা ও শিশুকল্যাণ দপ্তর ‘ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রোটেকশন অব রাইট) অ্যাক্ট ২০১৯’ তৈরি করে। রুলস বা আইন হিসেবে তা কার্যকর হয় ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর। তারই ২২ নম্বর ধারায় এই অধিকারের কথা বলা হয়েছে। আবেদনের ভিত্তিতে পৃথক পৃথক পরিচয়ের শংসাপত্র এবং আইডেন্টিটি কার্ড ইস্যু করা যাবে এই পড়ুয়াদের। কেউ যদি ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে পরিচিত হতে যায়, তাহলে ফর্ম ৩ (পরিচয়ের শংসাপত্র) এবং ফর্ম ৫-এর (সচিত্র পরিচয়পত্র) মাধ্যমে তা তারা পেতে পারে। ৪ এবং ৭ নম্বর ফর্মের ভিত্তিতে কোনো ট্রান্সজেন্ডার পড়ুয়া নিজেদের পুরুষ বা স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে শংসাপত্র এবং পরিচয়পত্র নিতে পারে। এই পরিচয়পত্র পাওয়ার পর নিজেদের যাবতীয় সরকারি নথিতে নিজেদের নাম, পদবি, ছবি এবং লিঙ্গ পরিবর্তন করার জন্য আবেদন জানাতে পারে সেই পড়ুয়ারা।

    শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে এই ধরনের আবেদনকারীদের যাবতীয় সরকারি নথি বদলে দিতে হবে। আগের নথিতে যে ক্রমিক সংখ্যা এবং রেফারেন্স নম্বর ছিল, তাই রাখতে হবে নয়া নথিতে। অর্থাৎ, সরকারিভাবে লিঙ্গ পরিবর্তনের আগের এবং পরের নথিকে একই বলে স্বীকৃতি দিতে হবে। সরকারি নথিতে একজন মানুষের পরিচয়টাই সম্পূর্ণ পালটে যেতে পারে। তবে দু’জন যে একই মানুষ, সেই রেকর্ড থাকবে। তাতে ওই পড়ুয়া আইনি ঝামেলা এড়াতে পারবে। কেন স্কুলস্তর থেকেই এমন উদ্যোগ নিতে হচ্ছে? আধিকারিকদের বক্তব্য, কেউ যদি নীচু ক্লাস থেকেই নিজের জেন্ডার আইডেন্টিটি নিয়ে সচেতন হয়, তাহলে সেটা ভালো ব্যাপার। এক্ষেত্রে অভিভাবকরাও সাহায্য করতে পারেন। আগেভাগে বিষয়টি সামনে এলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জন্য বরাদ্দ সুযোগ-সুবিধা তারা পেতে পারে। পরবর্তীতে সরকারি নথি পরিবর্তনের ঝক্কি অনেক। স্কুলস্তর থেকেই এই পরিচয়পত্র থাকলে বড় হয়ে আর সমস্যা হবে না।
  • Link to this news (বর্তমান)