• কালনার ইতিহাসকে তুলে ধরতে দু’দিনের বিশেষ মেলা
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, কালনা: শহরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে নানা পুরাতাত্ত্বিক দ্রষ্টব্য। প্রাচীন শহর কালনার ইতিহাসকে এই প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে দু’দিনের ইতিহাস মেলার আয়োজন করেছে কালনা মহকুমা ইতিহাস ও পুরাতত্ত্ব চর্চা কেন্দ্র (Kalna Subdistrict History and Archaeology Study Center)। শনিবার এই মেলার উদ্বোধন হয়। কালনা অম্বিকা মহিষমর্দিনী স্কুলে আয়োজিত মেলা ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় হস্তশিল্প প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সেমিনার, ক্যুইজ় আয়োজন করা হয়েছে। মহকুমার বাসিন্দাদের প্রাচীন সংগ্রহের প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

    কালনা শহরে (Kalna Town) রয়েছে ১০৮টি শিবমন্দির, প্রতাপেশ্বর মন্দির, লালজি মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্রের মন্দির–সহ বেশ কিছু পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন। রয়েছে হাবসি আমলের মসজিদও। আবার এই শহরেই রয়েছে বর্ধমান রাজপরিবারের কয়েক জন সদস্যের সমাধিস্থল সমাজবাড়িও। সেই সব নির্দশন ঘিরে রয়েছে অনেক কাহিনি। সেই সব কাহিনির অনেকটা জানা গেলেও এখনও অজানা রয়েছে অনেক, অনেক গল্প। ইতিহাস মেলায় আয়োজিত সেমিনারে সেই সব কাহিনি তুলে ধরেন বক্তারা।

    মেলার সম্পাদক বিশ্বজিৎ গাইন বলেন ‘মেলায় হস্তশিল্পের উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই শহরে সারা বছর ধরেই বাইরে থেকে প্রচুর মানুষ আসেন। কিন্তু কালনার স্মৃতি হিসেবে কিছুই প্রায় নিয়ে যেতে পারেন না। তাই মেলায় এলাকার হস্তশিল্পী, দারুশিল্পী, মৃৎশিল্পীদের সামগ্রী প্রদর্শিত ও বিক্রি হবে।’ মেলার এক উদ্যোক্তা তাপস কার্ফা বলেন, ‘প্রাচীন বহু জিনিস সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্ধমান রাজপরিবারের ব্যবহৃত সামগ্রী, প্রাচীন রেডিয়ো, মুদ্রা, ছবি–সহ বিভিন্ন জিনিস প্রদর্শিত হচ্ছে। আগামী দিনে এ সব নিয়ে শহরে একটি সংগ্রহশালা তৈরি করারও ইচ্ছা রয়েছে আমাদের।’ মেলার সভাপতি সিদ্ধেশ্বর আচার্য বলেন, ‘রাজ্যের খুব কম জায়গায় এই ধরনের মেলা হয়। মুর্শিদাবাদ, কাঁথিতে এমন মেলা হয়। এলাকার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তুলে ধরাই এই মেলার উদ্দেশ্য।’ মেলার প্রধান অতিথি, প্রত্নতত্ত্ববিদ অরুণিমা পতি বলেন, ‘এলাকার প্রাচীন বিষয়গুলি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসার যোগ্য। অনেক ভালো এবং প্রাচীন জিনিসের সংগ্রহও রয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)