গিরিশ পার্কের ঘটনায় মন্ত্রী শশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ BJP-র, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার ৯
আজ তক | ১৫ মার্চ ২০২৬
শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভার ঠিক আগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকা। বিজেপি এবং তৃণমূলের সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ জুড়ে। এই ঘটনায় এবার রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজার বিরুদ্ধে গিরিশ পার্ক থানায় অভিযোগ দায়ের করল বিজেপি। জানা যাচ্ছে তৃণমূলও এই ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক চত্বর। তখনও ব্রিগেডে মোদীর সভা শুরু হয়নি। চলে দেদার ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর করা হল গাড়ি। ইটের ঘায়ে মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়তে দেখা যায় বিজেপি কর্মীকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ। গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বা়ডিতেও হামলা চলে বলে অভিযোগ। মন্ত্রী জানিয়েছেন তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। 'আমাকে খুন করতে আসা হয়েছিল, FIR করছি', বিস্ফোরক দাবি করেন মন্ত্রী শশী পাঁজা। বলেন, 'ব্রিগেড বা বি-গ্রেড র্যালির আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। আমি অবাক। গুন্ডা পুষেছে, খুনি পুষেছে বিজেপি। এতদিন দেখতাম গণতান্ত্রিক খুনি। আজ দেখলাম শারীরিকভাবে মারছে'।
স্থানীয় সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এলাকায় কিছু ফ্লেক্স টাঙানো হয়েছিল। অভিযোগ, জনসভায় যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীরা সেই ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেললে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা দুপক্ষের সংঘর্ষে রূপ নেয়। একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপির দুষ্কৃতীরা বিনা প্ররোচনায় তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে, শান্তিপূর্নভাবে সভায় যাওয়ার পথে তৃণমূল কর্মীরাই তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা। শনিবার বিকেলেই রাজ্যের নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি নিয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছেন। কমিশনের প্রশ্ন, কলকাতায় এখন কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। তা হলে, তাদের কেন রাস্তায় নামানো হয়নি? শনিবারের অশান্তির ঘটনায় জখম হন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর সহ ৮ পুলিশকর্মী। আহতের তালিকায় রয়েছেন বিজেপির উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ-সহ বেশ কয়েক জন বিজেপি এবং তৃণমূল কর্মীও।
ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী শহরে থাকার সময়েই দু'পক্ষের মধ্যে এই অশান্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। গিরিশ পার্কে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপি, দু’পক্ষই শনিবার রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। শশী পাঁজার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা যাচ্ছে, শনিবারের সংঘর্ষে ৮ জন আহত পুলিশকর্মীকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে ৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখনও ২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।