• ‘সবাইকে ক্ষমা করে এ বার বিদায়…’, সুপ্রিম অনুমতির পরে ‘জীবন্মৃত’ হরিশকে শেষ বিদায় বাবা-মায়ের
    এই সময় | ১৫ মার্চ ২০২৬
  • গাজ়িয়াবাদের রাজেন্দ্র এক্সটেনশনের ফ্ল্যাটে আজ এক বুকচেরা নিস্তব্ধতা। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, আজই সমাপ্তি ঘটতে চলেছে হরিশ রানার দীর্ঘ ১৩ বছরের যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়ের। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট ৩২ বছরের হরিশ রানাকে স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে। তার আগে তাঁকে চিরবিদায় জানাতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁর বাবা-মা।

    শনিবার নয়াদিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে তৈরি হয়েছিল এক হৃদয়বিদারক মূহূর্ত। স্ট্রেচারে শোয়া ছেলের কপালে শেষ চুম্বন এঁকে দিতে দিতে ডুকরে কেঁদে ওঠেন হরিশের মা নির্মলা দেবী। ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে চোখের জল বাঁধ মানেনি বাবা অশোক রানারও।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, শয্যাশায়ী হরিশের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে এক মহিলা বলছেন, ‘সবাইকে ক্ষমা কোরো। সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে চলে যাও, কেমন।’

    অশ্রুসজল চোখে বাবা অশোক বলেন, ‘৪৫৮৮ দিন ধরে এই যন্ত্রণা সহ্য করেছি, কিন্তু আজ ছেলেকে চিরতরে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা আরও বেশি যন্ত্রণার।’ এর পরেই হরিশকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লি এইমস-এর প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে।

    ২০১৩ সালে ছাদ থেকে পড়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী ছাত্র হরিশ। তারপর থেকে ১০০ শতাংশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় ‘পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেটে’ চলে যান তিনি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে শুধুমাত্র টিউবের মাধ্যমে তরল খাবার দিয়ে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল।

    অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ‘প্যাসিভ ইউথানেশিয়া’ বা পরোক্ষ স্বেচ্ছামৃত্যুর অনুমতি মিলেছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। হরিশের কষ্ট লাঘব করতে ৩০ দিনের অপেক্ষার মেয়াদও মকুব করেছে শীর্ষ আদালত। আর সেই নির্দেশ মেনেই দীর্ঘ ১৩ বছরের আশা ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাঁদের পরম আদরের ছেলেকে শেষ বিদায় জানালেন হরিশ রানার পরিবার।

  • Link to this news (এই সময়)