২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হয় মোট আট দফায়। ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলে ভোট উৎসব। এ বার ক’য় দফায়? শুরু থেকেই ছিল জল্পনা। বিরোধী দলগুলি মূলত ২ থেকে ৩ দফায় নির্বাচন করানোর আর্জি জানিয়েছিলেন কমিশনের বৈঠকে। শেষমেশ বাকি তিনটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে (অসম, কেরালা, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি) একদফায় ভোট হলেও পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন সম্পন্ন হবে। ‘দফা কম, অশান্তি কম’--- মূলত এই ভাবনা থেকেই কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলগুলিও। ২০১১ সালে ছয় দফায় নির্বাচন সংগঠিত হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরে ২০১৬ সালে ছয় দফায়, ২০২১ সালে আট দফায় নির্বাচন হয়।
ভোট ঘোষণার পরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘বাংলা-বিরোধী বিজেপি প্রত্যাখ্যান করতে বাংলার জনগণের কতগুলি ধাপ লাগবে? উত্তর একটাই— যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।’ উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে অবশ্য তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্দিষ্ট করে দফার জন্য কোনও আর্জি জানানো হয়নি।
তৃণমূলের সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘কমিশন ২০১১ সাল থেকে বিভিন্ন রকম এক্সপেরিমেন্ট করেছে। ৪ থেকে ৮ দফায় ভোট আগে হয়েছে। শেষ কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপির ইচ্ছেমতো এই দফা ঠিক হয়েছে। সবরকম পরীক্ষা করে কোনও উপায় না পেয়ে দুই দফায় করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই দফা কমে যাওয়া প্রাসঙ্গিক নয়। কমিশনকে একটা ত্রুটিহীন, নির্ভুল ভোটার লিস্ট তৈরি করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ এখনও কমিশন শেষ করতে পারেনি। আশা করছি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করবে।
অন্য দিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা এখনও বলছি, SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন যে হিংসা, সরকারের অসহযোগিতা দেখেছি, আমরা ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার পরেও ERO/AERO জমা দেননি। SIR প্রক্রিয়ার উপরে আমাদের নজর আছে। তবে একদফায় ভোট হলে কিছু মানুষ আরও বেশি খুশি হতেন। দু’দফায় করা হয়েছে, আমরা সন্তুষ্ট। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে লজ্জার বিষয়, সব রাজ্যে একদফা এবং এখানে দুই দফায় হচ্ছে।’
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘আমাদের কাছে দফা কোনও বিষয় নয়। আমরা চাই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। ভোটাররা ভয়হীন ভাবে ভোট দিতে পারবেন কি না, সেটা দেখার বিষয়।… গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াটা কলুষিত হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার সংস্কার করা হোক।’