• কবে প্রকাশ হতে পারে সিপিএমের প্রার্থী তালিকা?
    আজকাল | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে জোরদার তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে রাজ্যে দু’দফায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল, এবং ৪ মে প্রকাশিত হবে ফলাফল। এই পরিস্থিতিতে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনী প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

    এর মধ্যেই বাম শিবিরে শুরু হয়েছে প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর জল্পনা। দলীয় সূত্রের খবর, সিপিএম ইতিমধ্যেই অধিকাংশ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামীকালই সেই তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা প্রবল। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯৯ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে যে সিপিএম আগামীকালই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে মঙ্গলবারই তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

    দলীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ২০০টিরও বেশি আসনে প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বারও নির্বাচনী কৌশলে নতুন মুখকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে সিপিএম। জানা যাচ্ছে, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রার্থীই হতে পারেন যুব প্রজন্মের, আর বাকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ থাকবেন অভিজ্ঞ প্রবীণ নেতৃত্ব।

    এই তালিকায় কয়েকটি নাম ইতিমধ্যেই প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন সিপিএমের তরুণ নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অন্যদিকে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে আবারও প্রার্থী হতে পারেন সুজন চক্রবর্তী, যদিও ওই কেন্দ্রের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নেতা সৃজন ভট্টাচার্যের নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে সৃজন চাইছেন না ভোট দাঁড়াতে, জানা যাচ্ছে সূত্র মারফত। 

    বালি কেন্দ্র থেকে দীপ্সিতা ধর প্রার্থী হবেন কি না তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। যদিও দল চাইলে তিনি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত—এমনটাই ঘনিষ্ঠ মহলে জানা যাচ্ছে। এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক পলাশ দাশ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী, এবং রাজারহাট-নিউ টাউন কেন্দ্র থেকে সপ্তর্ষি দেব। ইতিমধ্যেই এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন তিনি।

    তবে এবারের নির্বাচনে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রার্থী হচ্ছেন না বলেই জানা গেছে। দলীয় সূত্রে খবর, তাঁকে গোটা রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই কোনও নির্দিষ্ট কেন্দ্রে লড়াইয়ের বদলে তিনি রাজ্যজুড়ে প্রচারের দায়িত্বই সামলাবেন। অন্যদিকে বামেদের সম্ভাব্য জোট নিয়েও এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আইএসএফের সঙ্গে জোট কার্যত নিশ্চিত হলেও কংগ্রেস একাই লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২১ সালের অভিজ্ঞতার পরে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, জোট তাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারেনি।

    রাজনৈতিক পরিসংখ্যানও বামেদের সামনে কঠিন বাস্তব তুলে ধরছে। ২০০৯ সালে সিপিএমের ভোট শতাংশ ছিল ৩৩.১, যা কমে ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ৬.৩ শতাংশে এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে আরও নেমে হয় ৫.৭ শতাংশ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সিপিএমের কোনও বিধায়ক নেই এবং লোকসভাতেও নেই কোনও সাংসদ।

    এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—নতুন প্রার্থী মুখ কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে**, নাকি বামেদের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে **বুথ স্তরের দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামোকে পুনর্গঠনের উপর। সব মিলিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলের চোখ আলিমুদ্দিনের দিকে। সিপিএম কাদের নিয়ে নির্বাচনের ময়দানে নামছে, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলতে পারে আগামীকাল বা মঙ্গলবারই, এমনটাই মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
  • Link to this news (আজকাল)