• বিজেপি-তৃণমূলের যোগসাজশের অভিযোগ তুললেন মহম্মদ সেলিম
    আজকাল | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ভোটের আগে একের পর এক জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও আইসি বদলি করা হচ্ছে। কেন এই বদলি করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন সিপিআই(এম)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবিবার বীরভূমের সিউড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তাঁর মতে, পুলিশ যদি দলদাস না হয়, তাহলে আলাদা করে বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হয় না।

    রবিবার সিউড়ির সিপিআই(এম) বীরভূম জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনী আচরণবিধি ঘোষণার পর এখন দেখার বিষয় নির্বাচন কমিশন কতটা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে। এতদিন রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকার নিজেদের দাপাদাপি দেখিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    সেলিমের দাবি, সামান্য ছুটছাট বা ঢিল ছোঁড়াকে অনেক সময় হিংসা বলে প্রচার করা হয়, অথচ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে গুরুতর ঘটনা ঘটছে সেগুলোর দিকে যথেষ্ট নজর দেওয়া হয় না। তিনি মণিপুরের পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছে এবং বহু মানুষ খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কিন্তু সেই ঘটনাগুলো নিয়ে ততটা আলোচনা হয় না।

    এদিন তিনি বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক ধরনের অলিখিত বোঝাপড়ার অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, মানুষের দৃষ্টি আসল সমস্যা থেকে সরিয়ে দিতে দুই দলই মেরুকরণের রাজনীতি করছে। অনেক সময় বিজেপি-তৃণমূলের সংঘাতকে বড় করে দেখানো হলেও তা আসলে ঘরোয়া কোন্দল মাত্র এবং সেটাকে সামনে এনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পাশাপাশি ভোটাধিকার প্রসঙ্গেও জোর দেন সেলিম। তাঁর মতে, নির্বাচন মানে শুধু ভোটের দিন নয়; ভোটার তালিকা প্রস্তুত থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রেই সেই প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ছে। পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    গত নির্বাচনের উদাহরণ টেনে শীতলকুচির ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন সেলিম। তাঁর প্রশ্ন, সেই ঘটনার তদন্ত নিয়ে এত আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কী রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে বা কেউ শাস্তি পেয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এই ধরনের ঘটনার যথাযথ তদন্ত এবং জবাবদিহি না হলে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিনের বক্তব্যে তিনি রাজ্যের বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিষয়টিও সামনে আনেন। তাঁর দাবি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকট এখন রাজ্যের অন্যতম বড় সমস্যা। অথচ সেই বিষয়গুলো থেকে মানুষের নজর ঘুরিয়ে দিতে ধর্ম বা বিভাজনের রাজনীতি সামনে আনা হচ্ছে। মানুষের রুটি-রুজি, কাজের সুযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নই আসল লড়াই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    একই সঙ্গে মানুষের ঐক্যের ওপর জোর দেন সেলিম। তাঁর বক্তব্য, উৎসব বা মেলা শুধু আনন্দের অনুষ্ঠান নয়, এগুলো মানুষের সম্প্রীতির প্রতীক। বিভাজনের রাজনীতি যখন সমাজকে ভাঙতে চাইছে, তখন সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, ধর্ম দিয়ে মানুষের পেটের খিদে মেটানো যায় না, তাই মানুষের অধিকার এবং জীবিকার প্রশ্নেই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।
  • Link to this news (আজকাল)