আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। রবিবার বিকেলে বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচনসূচি প্রকাশ করেছে Election Commission of India। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোট হবে মাত্র দু’দফায়। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। সব রাজ্যের মতো বাংলাতেও ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই পর্যায়ে ভোট হবে উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায়। দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি আসনে ভোট হবে, যার মধ্যে রয়েছে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলি। প্রথম দফায় মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল, স্ক্রুটিনি হবে ৭ এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ এপ্রিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৯ এপ্রিল, স্ক্রুটিনি ১০ এপ্রিল এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ এপ্রিল।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৩ কোটি ২৮ লক্ষ এবং মহিলা ভোটার প্রায় ৩ কোটি ১৬ লক্ষ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ১,১৫২ জন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটকর্মী এবং সাড়ে আট লক্ষের কাছাকাছি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ৪৯ হাজার মাইক্রো অবজার্ভার, ১,৪৪৪ জন অবজার্ভার, ২১ হাজার সেক্টর অফিসার ও বিপুল সংখ্যক গণনাকর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরে শুরু হয়েছে প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর আলোচনা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই অধিকাংশ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। জানা গেছে, সোমবারই ২৯৪টি আসনের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে। সূত্রের খবর, রবিবার বা সোমবার কলকাতায় দলের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরেই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এবারও প্রার্থী নির্বাচনে বড় ধরনের চমক থাকতে পারে বলে জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আবারও নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই নির্বাচনে লড়বেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে বেশ কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। দলের অন্দরে আলোচনা চলছে কয়েকজন বর্তমান বিধায়ককে নিয়ে। তাঁদের মধ্যে চোপড়া কেন্দ্রের বিধায়ক রুকবানুর রহমান এবার টিকিট নাও পেতে পারেন বলে খবর। একইভাবে বেচারাম মান্নার স্ত্রী কবরী মান্নার টিকিট নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কামারহাটির বিধায়ক এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রর ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁকে হয়তো অন্য কোনও কেন্দ্রে লড়তে দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা। অন্যদিকে সদ্য দলবদল করা প্রতীক উর রহমানকে মগরাহাট কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে সূত্রের দাবি। মহেশতলা কেন্দ্রেও নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবারের মতো এবারও তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় চমক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। টলিউডের কয়েকজন পরিচিত মুখকে ভোটের ময়দানে নামানো হতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। গায়িকা ইমন চক্রবর্তী এবং অভিনেতা পরমব্রত চট্টপাধ্যায়-এর নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ এবং নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যকেও এবার প্রার্থী করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।নন্দীগ্রাম কেন্দ্র নিয়েও ফের জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সেই কেন্দ্র থেকে শিউলি সাহাকে প্রার্থী করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাম শিবিরেও প্রার্থী তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সিপিএম সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০০টিরও বেশি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এবার প্রার্থী নির্বাচনে তরুণ প্রজন্মকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে দল। সম্ভাবনা রয়েছে যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রার্থীই হতে পারেন নতুন বা অপেক্ষাকৃত তরুণ মুখ। বাকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ থাকবেন অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। সব কিছু ঠিক থাকলে সোমবার অথবা মঙ্গলবারই সিপিএম তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে বলে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে।
ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে নির্বাচনী আবহ আরও তীব্র হয়েছে। শাসক দল চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও নতুন কৌশল নিয়ে ভোটের ময়দানে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রধান রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হলে নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।