১৫২ এবং ১৪২! দুই দফায় এই প্রথম ভোট হবে পশ্চিমবাংলায়! প্রথম দফায় ১৬ জেলায়, দ্বিতীয় দফায় সাত, আপনার কেন্দ্রে কবে
আনন্দবাজার | ১৫ মার্চ ২০২৬
এ বার দুই দফাতেই পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের নির্বাচন। প্রথম দফায় ১৬ এবং দ্বিতীয় দফায় সাতটি জেলায় নির্বাচন রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন কলকাতাকে দু’টি নির্বাচনী জেলা হিসাবে ভাগ করেছে। সেই হিসাবে দ্বিতীয় দফায় আটটি নির্বাচনী জেলায় ভোট হবে। ভোটের ফলঘোষণা আগামী ৪ মে, সোমবার।
২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় মোট ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ওই দফায় সমগ্র উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির ভোটগ্রহণ হয়ে যাবে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার পাশাপাশি প্রথম দফায় জঙ্গলমহলেও নির্বাচন রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদে প্রথম দফায় নির্বাচন। পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরেও প্রথম দফায় ভোট। আবার দুই বর্ধমানে দুই দফায় হবে ভোটগ্রহণ। প্রথম দফায় পশ্চিম বর্ধমানে ভোট রয়েছে।২৯ এপ্রিল, বুধবার দ্বিতীয় দফায় মোট ১৪২টি আসনে নির্বাচন রয়েছে। ওই দিন কলকাতা-সহ পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, হুগলি, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভোটগ্রহণ।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ সালেই শুধু এক দফায় ভোট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এর আগে কখনও দুই দফায় ভোট হয়নি। বস্তুত, ২৫ বছর পর এত কম দফায় বিধানসভা ভোট হচ্ছে এ রাজ্যে। ২০২১ সালে কোভিড পরিস্থিতিতে আট দফায় ভোট হয়েছিল রাজ্যে। প্রথম দফার ভোট ছিল ২৭ মার্চ। শেষ দফার ভোট হয় ২৯ এপ্রিল। ফল ঘোষণা হয়েছিল ২ মে। এ বারও শেষ দফার ভোট সেই ২৯ এপ্রিল। তবে ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দফা কমানো প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “কমিশন মনে করছে, দফা কমানো প্রয়োজন। সকলের পক্ষে সুবিধাজনক এমন একটি পর্যায়ে নির্বাচনের দিনক্ষণ করা দরকার।”
পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত আরও তিনটি রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা ভোটের সময়সূচি প্রকাশ করেছে কমিশন। প্রতিটিতেই এক দফায় ভোট হবে। অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ হবে ৯ এপ্রিল। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে আগামী ২৩ এপ্রিল।
কমিশন জানিয়েছে, এ বার পশ্চিমবঙ্গে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ। প্রথম বার ভোট দেবেন ৫ লক্ষ ২৩ হাজার জন।
ইতিমধ্যে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে রাজ্যে। রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কোনও নির্বাচনী প্রচারে লাউডস্পিকার, পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম বা কোনও ধরনের সাউন্ড অ্যাম্পলিফায়ার ব্যবহার করা যাবে না। রাতে লাউডস্পিকার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছে, কোনও আসনে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে প্রচার বন্ধ করতে হবে। এই ‘সাইলেন্স পিরিয়ডে’র মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারের সময় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে আকারে-ইঙ্গিতেও কোনও মন্তব্য করা যাবে না। এমনকি ওই এলাকা নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকেও কোনও মন্তব্য করা যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলিকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকারও বার্তা দিয়েছে কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, প্রচারের সময় পোস্টার, ব্যানার তৈরির ক্ষেত্রে প্লাস্টিক, পলিথিন বা এই ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তা ছাড়া, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে নাবালক বা শিশুকে নিয়োগ করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, পরে প্রচারবিধি সংক্রান্ত সবিস্তার নির্দেশিকা দেওয়া হবে।