এই সময়, ঝাড়গ্রাম: মুরলি খালের (Murli Canal) উপরে সেতু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। কিন্তু পরের বর্ষাতেই খালের জলের তোড়ে সেতুর স্তম্ভগুলির চারপাশ থেকে মাটি ধুয়ে যায়। ফলে সেতুর কয়েকটি স্তম্ভ হেলে পড়ে। ভাঙা ওই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলত পারাপার। এমনকী ভাঙা সেতুতেই চলত মোটরবাইক, সাইকেল, ইঞ্জিনচালিত ভ্যান। যা বিপজ্জনক। ওই সেতু পেরিয়ে যেতে হতো পড়ুয়াদেরও। চিন্তায় থাকতেন অভিভাবকেরা। প্রায় তিন দশক ধরে সেতুর জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন নয়াগ্রামের বাসিন্দারা। ভোটের আগেই সুখবর। সেই দাবি এ বার মিটতে চলেছে। রবিবার নয়াগ্রাম ব্লকের কুলডিহা থেকে নাগরিপাদা যাওয়ার মাঝে মুরলি খালের উপরে সেতু তৈরির শিলান্যাস করলেন বিধায়ক দুলাল মুর্মু। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ রমেশ রাউত, জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য সঞ্চিতা ঘোষ, নয়াগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি একাদশী মাণ্ডি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সেতুটি তৈরির জন্য জেলা পরিষদের (Jhargram Zilla Parishad) পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৬৭ হাজার ১৩৬ টাকা। জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারাণ্ডি বলেন, ‘গত বছর নাগরিপাদায় সেতু তৈরির জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে মাত্র দু’জন অংশ নিয়েছিলেন। সে জন্য সেটি বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন প্ল্যান করে বক্স কালভার্ট করার জন্য পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।’ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের কুলডিহা থেকে নাগরিপাদা যাওয়ার মাঝে মুরলি খালের উপরে ওই সেতু।
নয়াগ্রাম ব্লকের ভৌগলিক অবস্থান পার্শ্ববর্তী ওডিশা সীমানা লাগোয়া হওয়ায় প্রতিদিন এই নাগরিপাদা সেতু দিয়ে সাইকেল, মোটরবাইকে করে কয়েক হাজার মানুষজন যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কুলডিহা থেকে নাগরিপাদা যাওয়ার মোরাম রাস্তার মাঝে ওই সেতু দিয়ে বামনদা, হাতিটোপ, বাকসা, নাগরিপাদা, নড়রি, পাঞ্চামি, বালিমুণ্ডির মতো প্রায় দশ-বারোটি গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করেন। এ ছাড়া সেতু পেরিয়ে অনেকে কুলডিহা, ধুমসাই এলাকায় হাটে যান। নাগরিপাদার হাইস্কুলেও পড়ুয়াদের সেই ভগ্ন সেতু পেরিয়ে যেতে হয়। ঝুঁকি নিয়েই অটো-ট্রেকার, মালবাহী ট্র্যাক্টর যাতায়াত করে ওই নড়বড়ে সেতু দিয়েই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ভগ্ন অবস্থায় থাকলেও নতুন করে সেতুটি তৈরি করা হয়নি। একাধিকবার প্রশাসনিক দপ্তরে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।
ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি দেবাশিস কুণ্ডু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি তৈরির দাবি জানিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। পনেরো বছরে তৃণমূল সরকারের সেতু তৈরির কথা কারও মনে পড়েনি। ঠিক ভোট ঘোষণার আগেই নেতাদের শীতঘুম ভাঙল। ভোটের আগে সেতু তৈরি করে চমক দিতে চাইছেন শাসকদলের নেতারা।’ নয়াগ্রামের বিধায়ক দুলাল মুর্মু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই নয়াগ্রাম নতুন রূপে সেজে উঠছে। বিজেপি তা চোখে দেখতে পায়নি। ওরা চোখে উন্নয়ন দেখতে পায় না। কুৎসা করাই শুধু বিজেপির কাজ।’