• ফ্রি টিকিট নিয়ে দুর্নীতি এয়ার ইন্ডিয়ায়, বদলাতে চলেছে নিয়ম
    এই সময় | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা। এয়ার ইন্ডিয়ার (AIR INDIA) কর্মীরা বিনিপয়সায় ফ্লাইটের টিকিট পান। যে টিকিটে শুধু নিজে নন, নিকটাত্মীয়ও এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইটে যাতায়াত করতে পারেন। সারা বছরে এক জন কর্মী এরকম ১৪টি ফ্রি টিকিট পান।

    আত্মীয়দের বদলে সেই টিকিটে অন্য লোককে পাঠিয়ে দুর্নীতির (SCAM) অভিযোগ উঠেছে সংস্থার কর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের খবর, এয়ার ইন্ডিয়ার ২৪ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় চার হাজার কর্মী নাকি এর সঙ্গে জড়িত! চড়া দামে টিকিট বিক্রি করারও অভিযোগ উঠেছে। এক কর্মীর কথায়, ‘ধরে নিন আমার ছেলে কমলের নামে বিনিপয়সার টিকিট নিলাম। সুদীপ নামে এক জনকে সেই টিকিট বিক্রি করে দিলাম। সুদীপ আমার ছেলে কমলের নামে ফ্লাই করল। সে ক্ষেত্রে ভিজ়িটার্স পাস করিয়ে সুদীপকে বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকিয়ে নিলেই হলো। ডোমেস্টিক সেক্টরে গন্তব্যে পৌঁছনো পর্যন্ত আর তাঁকে আই–কার্ড দেখাতে হচ্ছে না। একটাই সমস্যা, সেই বিমান ক্র্যাশ করলে ইনশিওরেন্সের সুবিধে সুদীপ পাবেন না। আমিও ধরা পড়ে যাব।’ ইন্টারন্যাশনাল সেক্টরে আই কার্ড বা পাসপোর্ট লাগে। সেখানে এক জনের টিকিটে অন্য জন ফ্লাই করতে পারেন না। এই কর্মীর দাবি, অনেকেই অপরিচিতকে নিজের ‘জামাই’ দাবি করে বিদেশে পাঠিয়েছেন।

    এই সব দুর্নীতি আটকাতে নতুন নিয়ম চালু করছে এয়ার ইন্ডিয়া। বলা হয়েছে, এ বার থেকে কর্মীর যে আত্মীয় ফ্রি টিকিটের সুবিধে নেবেন, কর্মীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের সংশাপত্র জমা দিতে হবে সংস্থায়। এক কর্মীর কথায়, ‘আমার স্ত্রীর নামে ফ্রি টিকিট পেতে এ বার আমাকে ম্যারেজ সার্টিফিকেট বা এমন কোনও নথি জমা দিতে হবে যেখানে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক লেখা থাকবে। একই ভাবে ছেলে–মেয়ের নথিও দিতে হবে। ২০ মার্চের মধ্যে সংস্থার কাছে সেই তথ্য জমা দিতে হবে। ১ এপ্রিল থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু করবে সংস্থা।’

    শুধু স্ত্রী বা ছেলে–মেয়ে নয়, এয়ার ইন্ডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী বাবা–মা, শ্বশুর–শাশুড়ি, ছেলের বৌ, জামাই, ভাই–বোন, নাতি–নাতনি, দাদু–ঠাকুমাও এই ফ্রি টিকিটের সুবিধে পান। কেন্দ্রের হাত থেকে এয়ার ইন্ডিয়া টাটা গোষ্ঠীর হাতে চলে যাওয়ার পরে ঠিক হয়, একটি আর্থিক বছরে যে কোনও পাঁচ জন আত্মীয় ওই ফ্রি টিকিটের সুবিধে নিতে পারবেন। সেই পাঁচ আত্মীয়ের নাম বছরের শুরুতেই নথিভুক্ত করে দিতে হবে। পরের বছরে সেই নাম বদলাতে পারবেন কর্মী। অভিযোগ, তার পরেও দুর্নীতি আটকানো যায়নি। একটি অংশের দাবি, ২০২২–এর জানুয়ারিতে টাটা গোষ্ঠী হাতে নেওয়ার পরে যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে তাঁদের সংখ্যাই নাকি বেশি। সূত্রের দাবি, তদন্তে বেনিয়ম ধরা পড়ার পরে এখন অভিযুক্তদের অনেককেই টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে এবং অনেকের উপরে জরিমানাও চাপানো হবে বলে একটি সূত্রের দাবি। যদিও এ নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে যোগাযোগ করা হলে কোনও জবাব মেলেনি।

  • Link to this news (এই সময়)