টেকনোলজিকে প্রাধান্য দিয়ে সিনেমাকে উপস্থাপন করার প্রবণত প্রথম থেকেই দেখা গিয়েছে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে হলিউডি নিঃসন্দেহে এগিয়ে থেকেছে। অ্যানিমেশন, গ্রাফিক্স, এক্সপেনসিভ সিনেমাটোগ্রাফি-সহ একটা বিশ্বমানের করে তুলতে যা-যা প্রয়োজন, সেগুলি সবটাই আমরা দেখেছি আমেরিকা, ইউরোপের দেশগুলির ছবিতে।
আমাদের দেশে যে এমন বিগ বাজেট এবং বড় ক্য়ানভাসের ছবি হচ্ছে না, তা নয়। টেকোনলজি নিয়েও আমাদের সিনেমায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং ভবিষ্যতে সেটা আরও ভালো ভাবে হবে। তবে কোনও ছবি বাজেট, ক্যানভাস, টেকোলজির কারিকুরি ছাড়াই বিশ্বের দরবারে পৌঁছে যেতে পারে। তার সাম্প্রতিক অতীতে তার অন্যতম বড় উদাহরণ 'লা পাতা লেডিস' এবং 'হোমবাউন্ড'। আমাদের আরও অনেক দূর পৌঁছতে গেলে কন্টেন্টের উপর জোর দিতেই হবে।
এমন একটা সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি যে খানে ক্ল্যাসিক, আর্টিস্টিক, কর্মাশিয়াল সিনেমা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীন জীবন, সরলতা, অনুভূতির স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ আছে, এমন ছবি বেশি গুরুত্ব পায়। আগেও পেত, এখন আরও বেশি করে পাচ্ছে। শহরকেন্দ্রিক ছবির বাইরে গিয়ে একটু চোখের শান্তি, মনের শান্তি এবং আমাদের প্রান্তিক জীবনকে তুল ধরে যে ছবিগুলি, বিশ্ব সিনেমার দরবারে সেই ছবিগুলির কদর ইদানীং বেশি।
এ বার এই ধরনের ছবি সারা পৃথিবীর দর্শকও অ্যাপ্রিশিয়েট করতে শুরু করে। অ্যাকডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা এই ধরনের বড় প্ল্যাটফর্মগুলিও এমন ছবিকেই তুলে নিয়ে আসে, যেগুলি তার আগে বিশ্বের দর্শকের কাছে খুব বেশি করে পৌঁছয়নি। গোটা বিশ্বকে এক নতুন ঘরানার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রয়াস থাকে।
একটা 'লা পাতা লেডিস', একটা 'হোমবাউন্ড' মাঝেমাঝে তৈরি হয়। ফলে এই ছবিগুলি সিনেমাপ্রেমী মানুষের মধ্যে আরও বেশি কৌতূহল তৈরি করে দেয়।যখন সিনেমার কোনও ধারা নিয়ে কৌতূহল জন্ম নেয়, অবশ্যম্ভাবী যে সেটা বিশ্বজনীন হয়ে উঠবে। সেই সিনেমাও তখন গিয়ে পৌঁছবে অস্কার, কান-এর মতো বিশ্বমঞ্চে।
এই সিনেমাগুলির মধ্যে এক শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার কথা উঠে আসছে, সংলাপ আছে, কথা আছে সেই সঙ্গে সিনম্যাটিক এলিমেন্টস তো আছেই। একটা সিনেমা বিশ্বজনীন হয়ে উঠতে যা-যা উপাদান লাগে, সেই সবগুলিই হয়তো এই সিনেমাগুলিতে রয়েছে, যে কারণে বড় প্ল্যাটফর্মে পৌঁছতে পেরেছে। অস্কার কর্তৃপক্ষ এই ছবিগুলোকে তুলে আনতে চাইছে। এটা আমাদের কাজের তাগিদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ বার অনেকেরই মনে হতে পারে, তা হলে কেন অস্কার জিতল না?