• গ্যাস সঙ্কটে ছানাবড়া থেকে তালশাঁস বানানোতে রাশ টেনেছেন মুর্শিদাবাদের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা
    এই সময় | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • বহরমপুর: দিন কয়েক আগে পর্যন্ত ট্রেতে হরেক রকমের মিষ্টি সাজিয়ে ভরে থাকত বিভিন্ন দোকান ও শো-রুমগুলো। এখন বহরমপুর বাজার (Baharampur Market) এলাকার সেই সব দোকানেই প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে মাত্র ৫০ শতাংশ মিষ্টি! তার মধ্যে আবার বাতিলের খাতায় থাকছে কড়া পাকের মিষ্টি ও সন্দেশ! এমনকী, জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত মুর্শিদাবাদের (Murshidbad) বিখ্যাত ছানাবড়া বানানোর ক্ষেত্রেও রাশ টানতে হয়েছে দোকানের মালিকদের। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের (West Asia War) ফলে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশ মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁ-মিষ্টির দোকানে কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ করেছে বিভিন্ন গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা। এর জন্য বিপাকে পড়েছেন মিষ্টির দোকানের মালিকরা।

    ‘মিষ্টি উদ্যোগ’ সংস্থার বহরমপুর শাখার সভাপতি কাজল সাহা বলেন, ‘আমাদের দোকানে দিনে দু’টি কমার্শিয়াল সিলিন্ডার লাগে। এখন সেখানে একটি সিলিন্ডার দিয়ে তিন দিন চালাতে হচ্ছে! তার প্রভাব পড়ছে মিষ্টি তৈরির ক্ষেত্রে।’ তাঁর চিন্তা, ‘এটা শুধু আমার সমস্যা নয়। বহরমপুরে যে ১৫০ মিষ্টির দোকান রয়েছে, তাদের সকলের সমস্যা।’ আগে ৬০-৭০ রকমের মিষ্টি বানানো হতো। সেখানে এখন বানানো হচ্ছে মাত্র ৩০-৩৫ রকমের। যে দোকান মালিক ৪৫-৫০ কিলো ছানা কিনতেন, তাঁরা এখন ছানা কেনার ক্ষেত্রে নেমে এসেছেন মাত্র ১০-১৫ কিলোতে। কাজল সাহা জানান, তবে যাঁদের ডিজ়েলের ভাটি রয়েছে। তাঁরা কিছুটা হলেও সুবিধে পাচ্ছেন। এই সিলিন্ডার আকালের বাজারে তিনিও বাধ্য হয়েছেন ডিজ়েল ভাটি কিনতে। যার খরচ পড়েছে ২৫ হাজার টাকা।

    কল্পনার মোড়ের মিষ্টি দোকানের মালিক শৈলেন ঘোষের কথায়, ‘আমি বাধ্য হয়ে ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি ইলেকট্রিক ওভেন কিনলাম। কারণ নোনতা বানানো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই ওভেন কেনার পরে রবিবার থেকে আবার নোনতা বানাচ্ছি।’ তবে কড়া পাকের মিষ্টি বানানো বন্ধ করেছেন বিভিন্ন দোকান মালিক। কারণ তাতে বাড়তি গ্যাস খরচ হচ্ছে। এর জন্য রাজভোগ, ছানাবড়া, সন্দেশ, তালশাঁস বানানোর ক্ষেত্রে রাশ টানা হয়েছে। লালদিঘির মিষ্টি দোকানের মালিক বুবাই সাহা বলেন, ‘দেশ–বিদেশের পর্যটক থেকে কলকাতা, দিল্লি, মুম্বইয়ে আত্মীয়-পরিজনকে পাঠানোর জন্য ছানাবড়ার চাহিদা খুবই থাকে। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি, তাতে সেই চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। অল্প করে বানানোর ফলে অধিকাংশ ক্রেতাদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছি।’ তবে বিয়ের মরশুম এখন না থাকায় হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন দোকান মালিকরা। তবে সামনে ইদ রয়েছে। সেই সঙ্গে রয়েছে পয়লা বৈশাখ। তার জন্য আগাম মিষ্টির অর্ডার নিতেও ভরসা পাচ্ছেন না তাঁরা। সব মিলিয়ে সিলিন্ডার সমস্যা কপালে ভাঁজ ফেলেছে মিষ্টির দোকান মালিকদের!

  • Link to this news (এই সময়)