• 'সাক্ষ্য যথেষ্ট নয়' নির্যাতিতার বয়ানে মিল নেই, শীর্ষ কোর্টে খালাস ৪ 'রেপিস্ট'
    এই সময় | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনের (Dehradun Uttarakhand) একটি মামলায় চার ব্যক্তিকে গণধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। ২০১২–র সেই রায় খারিজ করে সম্প্রতি চার জনকেই বেকসুর ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতি পঙ্কজ মিত্তল এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের বেঞ্চ।

    ঘটনাটি ১৯৯৮–এর। জুলাইয়ে দেরাদুনের তৎকালীন সিনিয়র পুলিশ সুপারকে লিখিত অভিযোগে এক মহিলা জানান, সে বছর ৭ এপ্রিল সন্ধেয় বাড়ি ফেরার পথে চার জন তাঁর পথ আটকান। তাঁর চোখ ঢেকে, টেনে-হিঁচড়ে কাছেই একটি এলাকায় নিয়ে গিয়ে পর পর ধর্ষণ করেন বলে মহিলার অভিযোগ। মুখ খুললে 'বিপদ আছে' বলে শাসানিও দেন। তাই ভয় পেয়ে ঘটনার বেশ ক'মাস বাদে পুলিশে যান তিনি।

    অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং ২০০০ সালে ট্রায়াল কোর্ট তাঁদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার নির্দেশ দেয়। উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে গেলে সেখানেও নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল থাকে। এর পরে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিযুক্তরা। সেই মামলা চলাকালীন দুই অভিযুক্তের মৃত্যুও হয়। বাকিরা অবশ্য জামিন পেয়েছিল।

    শীর্ষ কোর্টে অভিযুক্তদের আইনজীবী যুক্তি দেন — ঘটনার তিন মাস বাদে অভিযোগ জানান মহিলা। লোকলজ্জার কারণে পরিবারে মুখ না খুললেও অপরিচিত এক তরুণীকে সব জানান তিনি। অথচ পরে সেই তরুণীর পরিচয় মনে করতে পারেননি নির্যাতিতা! তা ছাড়া, অভিযোগকারিণীর বয়ানেও একাধিক অসঙ্গতি ছিল বলে আইনজীবীর দাবি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় 'নিগ্রহের' ঘটনা কারও চোখে পড়ল না কেন, সে প্রশ্নও ওঠে। জল নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে মহিলা ও তাঁর পরিবারের দ্বন্দ্বের কারণে মিথ্যে অভিযোগে এঁদের ফাঁসানো হয়েছে বলে আইনজীবী জানান। সব শুনে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত খারিজ করে বেঞ্চ। কোনও পরিজনকে না জানিয়ে অপিরিচিত এক জনকে অভিজ্ঞতা জানানো — মহিলার এই আচরণ 'অস্বাভাবিক' বলে মত বিচারপতি ভারালের। আদালত জানায়, কোর্টের বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে শুধু অভিযোগকারিণীর বয়ানের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেওয়াই যায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোর্টের বিশ্বাস অর্জন হচ্ছে না।

  • Link to this news (এই সময়)