• বাইরে থেকে সবুজ, ভিতরে মৃতপ্রায়, শহরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ
    এই সময় | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • শ্যামগোপাল রায়

    একটা গাছ বাইরে থেকে সবুজে সবুজ। পাতায় ভরা সেই গাছ দাঁড়িয়ে রাজপথের ধারে। কিন্তু কে বলবে, তার ভিতরটা মৃতপ্রায়। বাইরে থেকে দেখে তা কিন্তু বোঝারই উপায় নেই। গাছ নিয়ে কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipality) সদ্য সমাপ্ত একটি হেলথ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার (Health Checkup) রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। ঘূর্ণিঝড় বা কালবৈশাখী নয়, ওই ‘ট্রি হেলথ’ রিপোর্টই এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতা পুরসভার উদ্যান বিভাগের কর্তাদের কাছে। ধর্মতলা থেকে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ—শহরের ১০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অন্তত ২২০টি গাছ বর্তমানে ‘প্রাণঘাতী’ অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই রিপোর্ট জমা পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে পুর প্রশাসন।

    ওই সমীক্ষার রিপোর্টে জানা গিয়েছে, একাধিক গাছকে বাইরে থেকে তরতাজা বলে মনে হলেও ভিতরে তারা রীতিমতো ক্ষয়ে যাচ্ছে। বহু গাছের শারীরিক অবস্থা এমন যে, তারা ভেঙে পড়তে পারে সামান্য ঝড়েই। সেই গাছগুলোকে চিকিৎসা করে সারিয়ে তোলা হবে, নাকি তাদের কেটে ফেলতে হবে সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরের ১৭১টি বিশালাকার গাছ বিপজ্জনকভাবে হেলে রয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮টি গাছ মৃত, ১২টি প্রাচীন বৃক্ষের গোড়া পচে গিয়েছে এবং ৯টি গাছ মারণ রোগে আক্রান্ত।

    বিপজ্জনক এই গাছগুলির তালিকায় মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, বট-অশ্বত্থ, সজনে থেকে শুরু করে বহু প্রাচীন বৃক্ষ রয়েছে। উদ্ভিদবিদরা জানাচ্ছেন, বেশ কয়েকটি বড় বিপজ্জনক কদম গাছ রয়েছে, যেগুলির মূল কাণ্ড ফাঁপা হয়ে গিয়েছে, কিন্তু ডালপালা স্বাভাবিক থাকায় মাথা ভারী হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রাণের সুরক্ষার কথা মাথায় েরখে বন দপ্তরের অনুমতি নিয়ে দ্রুত এই গাছগুলি কেটা ফেলা বা ডাল ছাঁটাইয়ে সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিজ্ঞানী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়,‘শহরে যত্রতত্র ফুটপাথ কংক্রিটের চাদরে মুড়ে দেওয়ার ফলেই গাছের শিকড় শ্বাস নিতে পারছে না। ফলে শতাব্দী প্রাচীন গাছগুলির গোড়া আলগা হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কদম বা কৃষ্ণচূড়ার মতো গাছের কাণ্ড ভিতর থেকে ফাঁপা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।’ পুরসভার বিরোধী কাউন্সিলররা অবশ্য এই পরিসংখ্যানকে ‘হিমশৈলের চূড়া’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বিজেপির কাউন্সিলার সজল ঘোষের দাবি, ‘বাস্তবে বিপজ্জনক গাছের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। পুরসভা মৃত গাছের সংখ্যাও গোপন করতে চাইছে।’ যদিও বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মেয়র পারিষদ(পরিবেশ) স্বপন সমাদ্দার পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, ‘গাছ নিয়ে কোনও তথ্য ও ছবি থাকলে বিভাগীয় মেয়র পারিষদের ঘরে জমা দিন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    বিপজ্জনক গাছের পরিসংখ্যান

    ঝুকিপূর্ণ গাছ ২২০টি

    হেলে পড়া বড় গাছ ১৭১ টি

    মৃত বৃক্ষ ২৮ টি

    গোড়া ক্ষয়ে যাওয়া ১২টি

    গুরুতর রোগগ্রস্ত গাছ ৯ টি

    যে এলাকায় রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, এপিসি রোড, হাজরা রোড, বিবেকানন্দ রোড,

    আলিপুর রোড এবং রাজা এস সি মল্লিক রোড।

  • Link to this news (এই সময়)