• গতবারের জয়ের মার্জিন ছাপিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য, পিছিয়ে থাকা ১১টি ওয়ার্ডে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল
    বর্তমান | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লোকসভা ভোটে ১১-১১ ফলাফলে মানরক্ষা হয়েছিল তৃণমূলের। দলীয় প্রার্থী এখানে এগিয়েছিলেন ৬১৫ ভোটে। সেই দমদম পুরসভায় আগের রেওয়াজ মেনে লোকসভার ফলাফল বদলাতে কোমর বেঁধে নেমেছে জোড়াফুল শিবির। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১১ হাজার ভোটের লিড ছাড়িয়ে যেতে ওয়ার্ড ধরে ধরে মহিলা, যুব, শ্রমিক ও মূল (মাদার) সংগঠনের বাছাই নেতৃত্বকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যাঁরা বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের ঢেউ তোলার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পও প্রচারে আনছেন। বসছেন পাড়া বৈঠকে। যদিও প্রধান বিরোধী বিজেপির দাবি, মানুষ এবার তৃণমূলের মিথ্যে প্রচারের ফাঁদে পা দেবে না।

    দমদম বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে দমদম পুরসভার ২২টি ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার একাংশ (১৭টি ওয়ার্ড)। দমদমের ২২টি ওয়ার্ডে হিন্দিভাষী ভোটারের আধিক্য দক্ষিণ দমদমের তুলনায় বেশি। গত কয়েক বছরের ট্রেন্ড হল, দমদম শহরে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের ফলাফলে ফারাক ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে দমদমের ২২টি ওয়ার্ডে বিজেপি প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটে এগিয়েছিল। কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে সেই ঘাটতি মিটিয়ে তৃণমূল প্রায় ১১ হাজার ভোটে এগিয়ে যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে প্রায় ৬১৫ ভোটে। ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতে তাদের ‘লিড’ রয়েছে। এবার বিধানসভা ভোটে গত বিধানসভা ভোটের লিড টপকানোই লক্ষ্য স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের।

    তাই তৃণমূলের থিংক ট্যাঙ্ক পিছিয়ে থাকা ৫, ৮, ১০, ১১, ১২, ১৫, ১৬,১৭, ১৯,২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ নজর দিয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলিতে তৃণমূলের মাদার সংগঠনের পাশাপাশি মহিলা, যুব ও শ্রমিক সংগঠনের বাছাই নেতৃত্বকে ময়দানে নামানো হয়েছে। তাঁরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের উষ্মা বোঝার চেষ্টা করছেন। রাজ্য ও পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারের পাশাপাশি জনসংযোগ বাড়াতে কাজে নামানো হয়েছে পৃথক টিমকে। পরিস্থিতি বুঝে কোথাও কোথাও পাড়া বৈঠক করা হচ্ছে।

    দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা রাজ্য আইএনটিটিইউসির সম্পাদক বরুণ নট্ট বলেন, ‘লোকসভা ও বিধানসভার ফলাফলে কিছুটা ফারাক আছে। গত লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ, পাড়ায় সমাধান প্রকল্প তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি বলা হচ্ছে বিজেপির জুমলার কথাও। আশা করছি, এবার মানুষ আগের সমস্ত জয়ের রেকর্ড ভেঙে দেবে।’ বিজেপির প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা দমদমের বাসিন্দা অরিজিৎ বক্সি বলেন, ‘কথায় আছে, শেষ কাঁঠাল পুজোয় লাগে না। পাঁচ বছর ধরে শহরের জমি, সরকারি অর্থ লুটপাট করে শেষ বেলায় উন্নয়নের প্রচার মানুষ খাবে না। ফ্ল্যাটের নামে সিন্ডিকেট রাজ, কাউন্সিলারদের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির হিসাব মানুষ কষে রেখেছে। এবার জবাব দেবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)