কাঠ-কয়লায় ফিরেছে শহরের পাইস হোটেল, মাছ-ভাতের দামবৃদ্ধি ২০ টাকা
বর্তমান | ১৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার বহু পুরানো পাইস হোটেল যেন টাইমমেশিনে চেপে ফিরে গিয়েছে পুরানো জমানায়। আরব দুনিয়ার যুদ্ধের জেরে গ্যাসের দাম যেমন বেড়েছে তেমনই তৈরি হয়েছে গ্যাসের সংকট। সে সংকটের জেরে গৃহস্থ থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তরাঁ, সর্বত্র হাহাকার পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় বিকল্প পথই বেছে নিয়েছে শহরের পাইস হোটেলগুলি। শহরের প্রাচীন দোকান ‘তরুণ নিকেতন’ যেমন গত ৪-৫ দিন ধরে ভাত তৈরি করছে কাঠ জ্বালিয়ে। এছাড়া রাস্তার ধারের ভাতের হোটেল, রোল-চাউমিনের দোকানগুলি ইতিমধ্যেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ৫ থেকে ২০ টাকা।
রবিবার তরুণ নিকেতনের কর্ণধার অরুণ দেব বললেন, ‘চার-পাঁচ রকমের ভাজা হত। এখন তা কমিয়ে দিয়েছি। ডাল আগে অনেকরকম করতাম। এখন তাও কমিয়ে দিয়েছি।’ তবে খাবারের দাম বাড়ায়নি ১১১ বছরের পুরানো এই পাইস হোটেলটি। অরুণবাবু বললেন, ‘আমরা তো দাম বাড়াতে পারি না। আমাদের এখানে প্রতিদিন লোকজন খেতে আসেন। সেখানে তো আর দুম করে দাম বাড়ানো যায় না।’ তবে ফুটপাতের ভাতের হোটেল কিংবা রোল-চাউমিনের দোকানদাররা দাম না বাড়িয়ে চালাতে পারছেন না। লেক মার্কেট এলাকার একটি চাইনিজ খাবারের দোকানদার রামপ্রসাদ কাঁড়ার বললেন, ‘আমরা এগরোল, চিকেন রোলের দাম ৫ টাকা বাড়িয়েছি। আমাদের কিছু করার নেই। কারণ সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। তাও চাইলেই পাচ্ছি না।’ ওই চত্বরের আর এক দোকানদার সমর অধিকারী বললেন, ‘আমি কেরোসিনে রান্না করা শুরু করেছি। ১৩০ টাকা লিটার কিনতে হচ্ছে। শুধু রোলের দাম বাড়িয়েছিলাম। এবার চাউমিনের দামও বাড়িয়ে দেব।’
এর পাশাপাশি শহর ও শহরতলির কিছু ভাতের হোটেলও দাম বাড়িয়েছে। মধ্য কলকাতার একটি ভাতের হোটেলের দোকানদার বললেন, ‘মাছ-ভাত ৬০ টাকা নিতাম। কিন্তু আড়াই-তিন হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এখন আর কিছু করার নেই। বাধ্য হয়ে ২০ টাকা দাম বাড়িয়েছি। নইলে চালাতে পারছি না। পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেলে ভেবে দেখা যাবে।’ একই পরিস্থিতির কথা বললেন ধর্মতলার একটি ভাতের দোকানের মালিক। তাঁর কথায়, ‘কাঠ-কয়লায় ফিরে গিয়েছি। ডিম-ভাতের দাম বাড়াইনি। কিন্তু মাংস আর মাছের দাম বাড়াতে হয়েছে। এছাড়া কোনো উপায় নেই। আমাদেরও খারাপ লাগে। প্রতিদিনকার কাস্টমারদের কাছ থেকে আচমকা বেশি টাকা নিতে।’
এর পাশাপাশি রমজান মাসে জাকারিয়া স্ট্রিটেও গ্যাসের আকালের চিত্র ধরা পড়েছে। অনেকে বলছেন, ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিয়ে গ্যাস কিনতে হয়েছে। ফায়জান নামের এক দোকানদার বললেন, ‘হালিম তৈরি করছি কাঠ-কয়লাতে। এতে পরিশ্রম বেশি হচ্ছে। দাম বাড়াতেই হয়েছে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’