এই সময়, রূপনারায়ণপুর: ওরা ৫২ জন। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওদের পড়াশোনায় সাহায্য করে, একবেলা খাবারও দেয়। পাতে রোজই ভাত থাকলেও এখন খেতে হচ্ছে মুড়ি। ওদের অনেকেরই বাবা নেই বা মা নেই, কারও মা লোকের বাড়িতে কাজ করেন, কেউ দিনমজুর মা-বাবার সন্তান। স্কুলে পড়ে সবাই। পরিবারের দারিদ্র যাতে পড়াশোনায় বাধা হয়ে না-দাঁড়ায়, তাই পাশে দাঁড়িয়েছে পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (Peace Welfare Organization) নামে একটি সংগঠন। স্কুলের পরে ওরা রোজ আসে রূপনারায়ণপুরে সংগঠনের কার্যালয়ে, সন্ধ্যায় পড়াশোনা করে রাতের খাওয়া সেরে বাড়ি ফেরে। রবিবার ছুটির দিন বলে ওরা সকালেই আসে পড়াশোনা করতে, দুপুরের খাবারও খায়। এত দিন তারা খেয়েছে ভাত, ডাল ও একটি সবজি বা আলু সিদ্ধ কিংবা ভাত ও ডিমের ঝোল। গ্যাসের আকালে আর তার ব্যবস্থা করা গেল না। রবিবার দুপুরে ও রাতে মুড়ি খেয়ে কাটাতে হলো।
সোমবারও খাবার বলতে থাকবে মুড়ি। সংগঠনের অন্যতম কর্ণধার শুভদীপ সেন একরাশ আক্ষেপ নিয়ে বলেছেন, 'গ্যাসের ব্যবস্থা না-হলে মঙ্গলবার থেকে উনুনে রান্নার ব্যবস্থা করব। এতগুলো পেট ভরাতে হবে।' পিস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের পথ চলা শুরু ২০১০-এ। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানার সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুরে এই সংগঠন আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি শেখায়। ২০১৩-তে সংগঠন চালু করেছে এই খাওয়ানোর ব্যবস্থা। স্থানীয় বেশ কিছু বাসিন্দা ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তাদের নানা ভাবে সাহায্য করেন। শুভদীপ জানালেন, স্থানীয় দোকান থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে এনে যে রান্নার ব্যবস্থা করবেন, তাও পারছেন না। কারণ, ওই দোকানেও গ্যাস অমিল। তিনি বললেন, 'সোস্যাল মিডিয়ায় আবেদন করেছি, যদি কারও বাড়িতে বেশি সিলিন্ডার থাকে, তা হলে তাঁরা যদি একটি দিয়ে সাহায্য করেন।' তিনি আরও বললেন, 'করোনার সময়ে আমরা বাড়ি বাড়ি শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছি। এমন মারাত্মক সমস্যা তখনও হয়নি। এই পড়ুয়ারা কেউ ১০ কিলোমিটার, কেউ ১৪ কিলোমিটার দূর থেকে সাইকেলে যাতায়াত করে। ওদের একটু পেট ভরে ভাতও যদি খাওয়াতে না পারি।'