এই সময়, পুরুলিয়া: বাবা মারা গিয়েছেন অনেক দিন। কাশীপুরে (Kashipur) একান্নবর্তী পরিবার ধরে রেখেছেন ছয় ভাই মিলে। রান্নার গ্যাস নিয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারের নয়া নির্দেশিকায় সমস্যায় পড়েছে এই পরিবার। শুক্রবারই গ্যাসের এজেন্সি জানিয়ে দিয়েছে, গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা একটি সিলিন্ডার (Gas cylinder) পাওয়ার ৪৫ দিন পরে আবার সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন। এত বড় পরিবারের চার বেলার খাবারের আয়োজন তা হলে কী ভাবে হবে, চিন্তায় পড়েছেন ভাইরা। ছয় ভাইয়ের একজন পরিমল দাস। তিনি শুক্রবার জানালেন, তাঁদের পরিবারে ছয় ভাই, সবার স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে ২২ জনের জন্য রোজ চার বেলা রান্না হয়। সকাল ও বিকেলের চা-জলখাবার এবং দুপুর ও রাতের পরে বুক করা যাবে, এই নির্দেশিকায় তো প্রবল সমস্যায় পড়ে গিয়েছি। এত জনের চার বেলার রান্নাবান্না কী ভাবে হবে, ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছি না।'
কাশীপুরেরই ধানাড়া গ্রামের বাসিন্দা মধুসূদন গোস্বামীর পরিবারও একান্নবর্তী। তিনি এ দিন বলেন, 'আমাদের বাড়িতে ১৮ জন সদস্যের জন্য চার বেলা রান্না হয়। এখন তো কেরোসিনও পাওয়া যায় না। মাসে তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার লাগে। তিন জনের নামে সংযোগ রয়েছে। কিন্তু গ্রামীণ গ্রাহকদের বুকিংয়ের জন্য যে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে, তাতে খুবই সমস্যায় পড়ে গিয়েছি।' একই সমস্যায় হুড়া ব্লকের কলাবনি তাঁর কথায়, 'গ্রাম হলেও এখন তো যাবতীয় রান্না গ্যাসেই হয়। ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে গ্যাস ডেলিভারি পেয়েছিলাম। আজ বুক করতে গিয়ে দেখি মেসেজ ঢুকেছে, পয়লা এপ্রিল বুক করতে পারব। কী ভাবে সংসার চলবে, ভাবলেই মাথা ঘুরছে।' আড়শার এক পরিবারের বধু শীলাবতী মাহাতো বললেন, 'শুনলাম, শহরের গ্রাহকরা একবার সিলিন্ডার পাওয়ার ২৫ দিন পরে বুক করতে পারবেন। আর আমরা গ্রামে থাকি বলে ৪৫ দিন পরে! এই বৈষম্য কেন? শহর ও গ্রামের রান্নার সময় কি আলাদা?'
তিনি আরও বলেন, 'নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল বা ডাল সেদ্ধ হতে শহরেও যতটা বিভাজন নীতি তৈরি করা হলো?' শহর লাগোয়া গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা জানাচ্ছেন, শহর থেকে দূরের বেশ কিছু গ্রামীণ এলাকায় এখনও কাঠে রান্না হয়। কাঠ মেলেও। তাঁদের তো সেই সুবিধাটুকুও নেই। অথচ খাতায়-কলমে গ্রামীণ এলাকার গ্রাহক বলে তাঁরা একবার সিলিন্ডার পাওয়ার ৪৫ দিনের আগে গ্যাস বুক করতে পারবেন না! কেন্দ্রের এই নির্দেশে গ্রাহকদের সামলাতে জেরবার হচ্ছেন গ্যাসের ডিলাররা। পুরুলিয়া শহর লাগোয়া গ্রামীণ এলাকার গ্যাস ডিলার সুজিত রজক, কাশীপুরের গ্যাস ডিলার সৌমেন মোদক ও পুঞ্চার গ্যাস ডিলার মলয় মাহাতো, সবারই একই কথা- 'গ্রাহকরা প্রশ্ন করছেন, গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার গ্রাহকদের বুকিংয়ের জন্য ভিন্ন নিয়ম কেন। আমরা বলছি, মন্ত্রকের নির্দেশ। এ নিয়ে আমাদের সঙ্গে তর্কও জুড়ে দিচ্ছেন গ্রাহকরা। কিন্তু আমাদের তো সত্যিই কিছু করার নেই।’