• দলের বিধায়কের বিরুদ্ধে রাস্তায় BJP কর্মীরা, বাঁকুড়ায় পদ্ম শিবিরে চওড়া ফাটল
    এই সময় | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই সামনে এল বিজেপির অন্দরের চওড়া ফাটল। সেটাও এমন এক জেলায়, যেখানে গত বিধানসভা ভোটে দুর্দান্ত ফল করেছিল বিজেপি। রাজ্যের বিধানসভা ভোটের জন্য দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছে, এখনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি বিজেপি। তার আগেই রাস্তায় নামলেন বাঁকুড়ার ২টি বিধানসভা এলাকার বিজেপি কর্মীরা। ওই দুই জায়গায় বিজেপির যে দু’জন বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের যাতে আর প্রার্থী করা না হয়, সেই দাবিতে পথে নামেন কর্মীরা। একটি বাঁকুড়ার শালতোড়ায়, অন্যটি ছাতনা বিধানসভা এলাকায়।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের যে সমস্ত জেলায় বিজেপি সবচেয়ে ভালো ফল করেছিল তার মধ্যে অন্যতম হলো বাঁকুড়া জেলা। বাঁকুড়ার ১২টি আসনের মধ্যে ৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। বাঁকুড়ার শালতোড়া ও ছাতনায় বিধানসভা ভোটে জয় পেলেও, লোকসভা ভোটে ওই দু’টি বিধানসভায় বিজেপির থেকে এগিয়ে যায় তৃণমূল। তারপর থেকেই ওই দুই বিধানসভার বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। রবিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে চলে আসে।

    রবিবার সন্ধ্যায় শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরীকে আবার প্রার্থী না করার দাবিতে রাস্তায় নামেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। শালতোড়া বাজারে মিছিল করে বিধায়কের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই ছবি দেখা গিয়েছে ছাতনাতেও। বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়কে ফের প্রার্থী না করার দাবি তুলে পোস্টার পড়ে ছাতনা বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায়। ছাতনা বাজার, লোহাগড় মোড় ও ঝাঁটিপাহাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পোস্টার পড়েছে।

    শালতোড়ার বিজেপি-র বিক্ষুব্ধ নেতা সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘চন্দনা বাউরী যদি আবার যদি প্রার্থী হন অশান্তি হবে। কর্মীরা রক্ত জল করে ওঁকে জিতিয়েছিলেন, কিন্তু জেতার পরে উনি কর্মীদের পাশে ছিলেন না।’ স্থানীয় এক বিজেপি কর্মীর অভিযোগ, ‘এই বিধায়ক যদি আবার দাঁড়ান, তাহলে এই আসন হেরে যাবে বিজেপি। আমরা চাইছি এখানে যেন বিজেপি জেতে, তার জন্য নতুন মুখ চাই আমরা।’ যদিও এই বিক্ষোভকে গুরুত্ব দিতে চাননি বিজেপির জেলা নেতা সব্যসাচী রায়। তাঁর দাবি, ‘চন্দনা বাউরীর বিরুদ্ধে যাঁরা মিছিল করেছেন তাঁরা তৃণমূলের আশ্রয়ে থাকা লোক। ওঁরা গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করেনি, তৃণমূলের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছেন। বিজেপির জয় নিশ্চিত, তৃণমূল পরাজয় এড়ানোর জন্য এই পরিকল্পনা নিয়েছেন।’

    বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, ‘সারা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিধায়কদের মধ্যে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। বিজেপির মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল এটা।’

  • Link to this news (এই সময়)