রবিবারই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বাংলায় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর ভোটের দিন ঘোষণার পরেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রবিবার রাতে কোচবিহার জেলার দিনহাটায় তৃণমূলের এক যুবনেতাকে রাস্তায় ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির BJP-র কর্মীদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, দিনহাটার ভিলেজ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৭৭ নম্বর বুথের যুব তৃণমূল সভাপতি সায়ন চক্রবর্তীর উপরে হামলা হয়েছে। সায়নের অভিযোগ, রবিবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়ে BJP-র কয়েকজন কর্মী তাঁর উপরে হামলা করেন। সায়নের কোমরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় বলে অভিযোগ।
সায়নের দাবি, তিনি তৃণমূল কর্মী বলেই তাঁর উপরেই হামলা করা হয়েছে। বর্তমানে আহত অবস্থায় দিনহাটা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবনেতা। সায়নের দাবি, তাঁর যদি কোনও ক্ষতি হয়, তাঁর জন্য দায়ি থাকবে BJP-ই। যদিও সায়নের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় BJP নেতৃত্ব।
এ বিষয়ে BJP-র জেলা সম্পাদক অজয় রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, এর সঙ্গে BJP-র কোনও কর্মী জড়িত নন। তৃণমূল নিজের গোষ্ঠীকোন্দল ঢাকা দেওয়ার জন্যই BJP কর্মীদের উপরে দোষ দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন সায়নের পরিবার। সোমবার সকালে দিনহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সায়নের মা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, রবিবারের সাংবাদিক বৈঠকে বারবার ওঠে নির্বাচনের আগে-পরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হিংসার কথা। প্রশ্ন উঠেছে, বাংলায় কি ভোটের সময়ে হিংসা কমানো সম্ভব হবে এ বারে? দু’দফার ভোটে কি হিংসা-মুক্ত নির্বাচন দেখতে পাবে বাংলা? এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জানান, হিংসামুক্ত, প্ররোচনামুক্ত নির্বাচনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হবে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার যে কোনও অপচেষ্টাকে কমিশন মেনে নেবে না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।' যদিও, নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস সত্ত্বেও রবিবারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।