• ‘মনের দুঃখে তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি’, ঘোষণা আরাবুলের, এ বার তা হলে কোন দল?
    এই সময় | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ভোট (West Bengal Election 2026) এলেই নিজের দলের বিরুদ্ধে গুচ্ছের অভিযোগ উগরে দিয়ে পার্টি বদলের হিড়িক পড়ে যায়। সে যে দলেরই হোক না কেন। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগেই তৃণমূল ছাড়ছেন ভাঙড়ের বিতর্কিত শাসক দলের নেতা আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam TMC leader)। সোমবার নিজেই জানালেন সেই কথা। আর এর পরেই জল্পনা, কোন দলে যাচ্ছেন তৃণমূলের এক সময়ের ‘তাজা নেতা’? কেউ বলছেন, হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টি-র (AJUP) হাত ধরতে পারেন আরাবুল। কেউ বলছেন, এ বার আরাবুলের ঠিকানা নওশাদ সিদ্দিকির ISF। আরাবুল যদিও বলছেন, সময় বলবে।

    একাধিক বার দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে আরাবুল ইসলামকে। ইদানিং তাঁকে আর দলের কর্মসূচিতেও তেমন দেখা যায় না। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে আরাবুলের ‘অম্লমধুর’ সম্পর্ক নিয়েও নানা কথা শোনা যায়। সেই আরাবুল এ দিন বলেন, ‘মনের দুঃখে আজ তৃণমূল থেকে রিজ়াইন করছি।’

    কীসের দুঃখ? আরাবুল একেবারে নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ের কথা টেনে এনে বলেন, ‘সেই সময়ে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম। সিঙ্গুরে আমরা রোজ ২-৩ গাড়ি লোক নিয়ে যেতাম। নন্দীগ্রামে প্রায় ২১ বার গিয়েছি পার্থদার সঙ্গে। দু’বার গুলি চলে পার্থদার গাড়ির উপরে। আমরা কোনও ভাবে মাথা নিচু করে প্রাণে বাঁচি। সেই ভাবে দলটা করেছি। আজ সেই দল আরাবুল ইসলামকে চিনতে পারল না। আরাবুল ইসলামকে কোনও ভাবে বুঝতে পারল না। পাঁচ বার কেস খেয়েছি, তিন বার সাসপেন্ড হয়েছি। সেই কারণে মনের দুঃখে আজ তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।’

    এর পরে কী? আরাবুল জানালেন, ফুরফুরায় যাবেন তিনি। তার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ জানাবেন। প্রশ্ন ওঠে, তবে কি ISF-এ যোগ দিচ্ছেন আরাবুল? জোর জল্পনা, ক্যানিং পূর্ব থেকে শওকত মোল্লার বিরুদ্ধে প্রার্থীও হতে পারেন। ভাঙড়ের ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির কথায়, ‘এখনও তিনি অফিশিয়ালি তৃণমূলেই আছেন। আর আমার সঙ্গে এই রকম কোনও কথাও হয়নি। তবে এটাও ঠিক, আমাদের দলের একাধিক রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে তিনি ফোনে বা সামনাসামনি ISF-এ যোগদানের ইচ্ছে প্রকাশ করে কথা বলেছেন। যদিও কে আমাদের দলে আসবেন, কে আসবে না, তা ঠিক করেন আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকি ভাইজান।’

    এ দিকে আরাবুলের দলত্যাগের আগাম খবর ছড়াতেই জোর চর্চা ভাঙড়, ক্যানিংয়ে। এ নিয়ে তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লার প্রতিক্রিয়া, ‘আগে যাক, তার পরে যা বলার বলব।’ এই মুহূর্তে আরাবুল একেবারে ঘরে বসে। আরাবুলের ছেলে হাকিমুল ইসলাম জেলা পরিষদের সদস্য হলেও তৃণমূল নেতা হিসাবে কোনও মিটিং মিছিলে ডাক পান না বলে অভিযোগ। ভাঙড়ের আর এক তৃণমূল নেতা কাইজ়ার আহমেদও দলে কোণঠাসা। ভোটের আগে তাঁরাও নতুন পথে হাঁটেন কি না, নজর সে দিকেও।

  • Link to this news (এই সময়)