• ১৪ মার্চের ভিড় দেখে খুশি মোদী-শাহ, ব্রিগেড ভিড়ে কি ভোটবাক্সে প্রভাব পড়ে?
    আজ তক | ১৬ মার্চ ২০২৬
  • গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে ২০২১ সালের ৭ মার্চ ব্রিগেডে সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার ঠিক পাঁচ বছর  ফের সেই ব্রিগেডেই বিজেপি কর্মীদের চাঙ্গা করতে ভোকাল টনিক দিয়ে গেলেন মোদী। গতবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো এত বিশাল জনসমাগম তিনি দেখেছেন। মোদী তার বক্তৃতার শুরুতে সেবার বলেন, 'আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি শত শত রাজনৈতিক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু আমার দীর্ঘ কেরিয়ারে এই প্রথম এত বিশাল জনতার আশীর্বাদ পেলাম। হেলিকপ্টার থেকে আমি দেখতে পেলাম, মাঠে কোনও জায়গা নেই। '  পরে, তিনি বলেন, জনতার গর্জন শুনে কেউ সন্দেহ করবে না, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা দখল করবে। যদিও ২০২১ সালে বাংলার মসনদ অধরাই ছিল বিজেপি শিবিরের কাছে।

    এবারও ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত মোদী। মঞ্চে উঠে মোদীর বক্তব্য, ‘যত দূর আমার চোখ যাচ্ছে, যেখানেই আমার চোখ যাচ্ছে শুধু মানুষ আর মানুষ। এ এক অদ্ভুত দৃশ্য।’ প্রধানমন্ত্রী বলে গেলেন, এটা পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করছেন আট থেকে ১০ লক্ষ মানুষের ভিড় হয়েছিল। কানায় কানায় গোটা মাঠ ভর্তি ছিল। যদিও ব্রিগেডে কত ভিড় হয়েছিল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই  রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে।  তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলছেন, SUCI এর ব্রিগেডে এর থেকে বেশি লোক হয়েছিল। 

    তবে  ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভার ভিড় দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন অমিত শাহও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভায় ভিড় বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলায় মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। ব্রিগেডে সভার একটি ভিডিয়ো এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করেন মোদী। আর তার পরই এক্স হ্যান্ডলে শাহ লেখেন, 'কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির সভায় এই বিপুল জনসমাগম পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। বাংলার মানুষ মমতা দিদিকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। এবং তাঁরা বিজেপি-র সরকারকে নির্বাচিত করবেন।'

    বাংলায় এবার পরিবর্তন হবে বলে আশাবাদী বঙ্গ বিজেপি। ব্রিগেডের ভিডিয়ো পোস্ট করে বঙ্গ বিজেপি লিখছে, ‘জনসমুদ্র? না! এটা হল জন-সুনামি।’ তবে ব্রিগেডের  সভায় গ্রামাঞ্চল থেকে বহু বাঙালির উপস্থিতি নজরে পড়েছে। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে শহরে বিজেপি এগিয়ে থাকলেও গ্রামীণ সমর্থনের জোরে তৃণমূল বেশি আসন পেয়েছিল। তাই এই সভায় গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণ বিজেপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে। তবে ব্রিগেডের ভিড় সব সময় ভোটে প্রতিফলিত হয় না। এর আগে সিপিএমের ব্রিগেড তার প্রমাণ। বামেদের ব্রিগেডে অনেক ভিড় হলেও তার প্রতিফলন ভোটবাক্সে মেলেনি। তাই এবারের ভিড়ের ভোটের বাক্সে আদৌ কোন প্রতিফলন ফেলবে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিজেপির গ্রামাঞ্চলেও একটা জনভিত্তি তৈরি হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে তার প্রতিফল ভোট বাক্সে পড়বে কিনা বা সরকার বদলে যাবে কিনা তা এখনি বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে ব্রিগেডের সভা শেষ হলেও ভিড় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও জোরদার। ভোটের আগে এই সভা যে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ তৈরি করেছে, তা বলাই যায়।


     
  • Link to this news (আজ তক)