তৃণমূল ‘ছাড়লেন’ আরাবুল ইসলাম! ‘নতুন জীবন শুরু করছি,’ ফুরফুরা থেকে ঘোষণা ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’র
আনন্দবাজার | ১৬ মার্চ ২০২৬
তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে নতুন জীবন শুরু করছেন। সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে এই ঘোষণা করলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম। শাসকদলের নামে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে ‘তাজা নেতা’ জানান, যে দলের জন্য তিনি প্রাণপাত করেছেন, সেই দল তাকে পদে পদে অপমান করেছে। ভাঙড়ের হাওয়ায় গুঞ্জন, এ বার আইএসএফে যোগ দিতে পারেন আরাবুল।
২০০৬ সালে বিধানসভায় তৃণমূলের ৩০ জন বিধায়ক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন আরাবুল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় আসন থেকে সিপিএম প্রার্থী মোশাররফ হোসেন লস্করকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১১ সালে তৃণমূলের গোঁজ প্রার্থী নান্নু হোসেন বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ায় পরিবর্তনের হাওয়াতেও সিপিএমের বাদল জমাদারের কাছে পরাজিত হন আরাবুল। তার পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলে আরাবুলের গুরুত্ব কমেছে। দল তাঁকে বহিষ্কারও করেছিল। তবে আরাবুলের দাবি, তিনি এখনও ভাঙড়ের রাস্তা ধরে হেঁটে গেলে হাজার হাজার মানুষ তাঁর কাছে ছুটে যান। তিনি ভাঙড়ের মানুষের জন্য। ভাঙড়ের মানুষ সর্বদা তাঁর পাশে।
সোমবার সকালে ভাঙড় থেকে হুগলির ফুরফুরায় যান শওকত। পীরজাদাদের সঙ্গে দেখা করার পর তিনি বলেন, ‘‘আজ থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করলাম। নতুন জীবন শুরু করছি। হয়তো দু’দিনের মধ্যে জানতে পারবেন কোন দলে যাব।’’ কিন্তু দল তো তাঁকে আগেই বহিষ্কার করেছে? আরাবুলের জবাব, ‘‘বহিষ্কার তো আগেও করেছে। পাঁচ বার জেলও খাটিয়েছে। শুধু বহিষ্কার করত। জেল খাটানোর দরকার ছিল না!’’ তিনি জানান, জেলমুক্তির পরে তৃণমূল নেতৃত্বের নির্দেশমাফিক কাজ করেছেন। কিন্তু তার পরেও দল তাঁকে গুরুত্ব দেয়নি। আরাবুলের কথায়, ‘‘বার বার অপমান করেছে। আমি সেই অপমান মাথায় বসে থাকব না আর। তৃণমূলের কোনও নেতার সঙ্গে আর সম্পর্ক থাকবে না আমার।’’ আরাবুলের এ-ও দাবি, তাঁকে বহিষ্কারের জন্য তৃণমূলের এক নেতা নাকি কোটি টাকা খরচ করেছেন!
আরাবুলের ঘনিষ্ঠদের একাংশই জানাচ্ছেন, তৃণমূলের আর এক বিধায়ক শওকত মোল্লার প্রভাবে কোণঠাসা আরাবুল। দলের কাছে দরবার করেও গুরুত্ব না পেয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন একদা ‘তাজা নেতা’। আরাবুল নিজে জানিয়েছেন, আগামী, দু’দিনের মধ্যে পরিষ্কার করে দেবেন, তিনি কোন দলের।