‘নচিকেতার কন্যা বলে ও আলাদা করে কিছু কখনও নেয়নি’, ধানসিড়ির গান নিয়ে কী বললেন গায়ক?
আনন্দবাজার | ১৬ মার্চ ২০২৬
জন্মগত ভাবে তিনি তারকাকন্যা। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই পছন্দ করেন। বাবার সঙ্গে মাঝেমধ্যে এক মঞ্চে অনুষ্ঠান করলেও সেই ভাবে এখনও নিজেকে বিনোদনজগতের অংশ করে তোলেননি নচিকেতা-কন্যা ধানসিড়ি চক্রবর্তী। কিন্তু কেন? প্রশ্ন করতেই ধানসিড়ির স্পষ্ট উত্তর, “আমি আসলে নিজের মতো করেই থাকতে ভালবাসি।”
এই একই প্রশ্ন করা হয়েছিল নচিকেতা চক্রবর্তীকে। বাবার পরামর্শেই কি নিজেকে প্রচারের আলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পছন্দ করেন ধানসিড়ি? শিল্পীর উত্তর, “আমার পরামর্শ নয়। ও নিজেই একটু লাজুক প্রকৃতির। আমার পরিচয়টা খুব একটা ব্যবহার করতে চায় না ও।” নচিকেতার কন্যা— এই পরিচিতি ব্যবহার করলে, নিজের পরিচিতি তৈরি হবে না। এমন কোনও ধারণায় বিশ্বাস করেন ধানসিড়ি? নচিকেতা বলেন, “ও কখনওই এই পরিচিতি আলাদা করে ব্যবহার করেনি। স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে কোনও জায়গাতেই নচিকেতার মেয়ে বলে ও আলাদা কিছু নেয়নি। যে চাকরিটা ও করে, সেটাও আমার নাম না করেই পেয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে ধানসিড়ি আরও বলেন, “গানের জগতেও আমার নিজের মতো করেই আমি রয়েছি। আসলে সঙ্গীতজগতের সঙ্গে যোগ তৈরি হয়েছে নিজে থেকেই। পুরোটাই নিজের ইচ্ছায় হয়েছে। সঙ্গীত আমাকে একসময় নিজে থেকেই ধরা দেয়। তখন ঠিক করি, আমি গান করব। ছোটবেলায় আলাদা করে গান করার কথা ভাবিইনি।”
তবে বাবার সঙ্গে মঞ্চে গান গাইতে ওঠার অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন ধানসিড়ি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ধানসিড়ি গান, ‘সে প্রথম প্রেম বাবার নীলাঞ্জনা’। তিনি বলেন, “একাও অনুষ্ঠান করি। সবটাই সেখানে নিজের মতো করে ভাবা থাকে। তবে বাবার সঙ্গে এক মঞ্চে গাইতে গেলে একটু তো ভয় লাগেই।”
গান নিয়ে এবং জীবনে চলার পথে বাবার একটি পরামর্শ সব সময়ে মেনে চলার চেষ্টা করেন ধানসিড়ি। তাঁর কথায়, “বাবা সব কিছুতে ধৈর্য রাখতে বলেন। আমাকে বাড়িতে কখনও কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। যা করেছি, নিজের ইচ্ছেয় করেছি।”
ধানসিড়ি পেশায় শিক্ষিকা। সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান করেন। নচিকেতা নিজেও মনে করেন, আজকের দিনে শুধু গান গেয়ে টিকে থাকা কঠিন। একটি স্থায়ী পেশার প্রয়োজন রয়েছে। গায়কের কথায়, “স্কুলের পড়ানোর বিষয়টায় ও বেশি গুরুত্ব দেয়। গানটায় তাই বেশি সময় দিতে পারে না। আসলে শুধু গান গেয়ে টিকে থাকা কঠিন। সময়টা তো ভাল নয়।” তবে এই ব্যস্ত জীবনযাপনের মধ্যেও ছুটির দিনে বাবা-মেয়ে গান নিয়ে বসেন। শুধু একসঙ্গে গানবাজনা করাই নয়। অবসর পেলে পরস্পরকে দেশবিদেশের গানের খোঁজখবরও দেন তাঁরা।