হারিয়ে যাচ্ছে মানকরের মাছ ধরার মুগো সুতো বয়ন শিল্প
বর্তমান | ১৬ মার্চ ২০২৬
সংবাদদাতা, মানকর: নিশ্চুপে হারিয়ে যাচ্ছে মানকরের মাছ ধরার মুগো সুতো বয়ন শিল্প। একসময় স্থানীয়রা ছাড়াও বর্ধমান, কাটোয়া, কালনা, আসানসোল, বরাকর ও ভিনরাজ্যেও বিক্রির জন্য যেত মাছ ধরার এই সুতো। কিন্তু, এই শিল্প বর্তমানে একপ্রকার ধ্বংসের মুখে। শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আক্ষেপ পরবর্তী প্রজন্ম আর আগ্রহী নয় শিল্প নিয়ে। মেলেনি সরকারি সাহায্যও।
মানকরের কদমার মতোই নাম ছিল মুগো সুতোর। এই সুতো মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ছিপে এবং জালে লাগানো থাকে। মূলত সুতোর জমাট পাক, টেকসই এবং গুণমানের জন্যই অন্য জায়গার সুতো থেকে মানকরের সুতো খ্যতিলাভ করেছিল। কিন্তু, এখন শিল্পের অবস্থা রুগ্ন। শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সামগ্রিকভাবে মাছ ধরার জাল, মুগো সুতোর বাজার এখন নিম্নমুখী। ফলে বিক্রিবাটা খুবই কম। আগে প্রায় প্রতিদিন গড়ে পাঁচশো থেকে হাজার টাকার বিক্রি হত। কিন্তু, এখন একেবারেই কমে গিয়েছে। মানকরের বাসিন্দা শিল্পী নবকুমার নন্দী বলেন, একসময় এত চাহিদা ছিল যে, আমরা সাপ্লাই দিয়ে উঠতে পারতাম না। এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। করোনার পরে বিক্রি কমেছে অনেকটাই। মানকরের সুতোর বৈশিষ্ট্য কী ছিল? তিনি বলেন, আমরা হাতে সুতো তৈরি করতাম। বাইরের সুতো মেশিনে হয়। ফলে আমাদের সুতোর পাকে যে জমাটভাব থাকত, তা মেশিনে ছিল না। আমাদের সুতোতে মাছ ধরা ভালো হয়।
কিন্তু বিক্রি কমে গেল কেন? নবকুমারবাবু বলেন, আসলে আগে পুকুর মালিকরাই মাছ চাষ করতেন। তখন সখে বা অন্য কারণে অনেককেই মাছ ধরতে দিতেন। কিন্তু, এখন লিজে চাষ হওয়ার ফলে মাছ চাষিরা ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে দেন না। বদলে জাল দিয়ে একদিনে মাছ ধরে অংশীদারদের ভাগ দিয়ে দেন। ফলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মাছ ধরার আগ্রহ বা প্রবণতা দুটোই কমে গিয়েছে। তাই আমাদের বিক্রিও নেই বললেই চলে। এখন শিল্পীরা কেউ নিজেরা আর মুগো সুতো তৈরি করেন না। রেডিমেড কিনে আনেন। শিল্পীদের বক্তব্য, কাঁচামাল কিনে শ্রমিকদের খরচ সব মিলিয়ে বাজার না থাকায় লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছিল। তাই এখন রেডিমেড কিনে আনা হচ্ছে।
জামতাড়া এলাকার ভৈরব ঘোষ দোকানে এসেছিল জিনিস কিনতে। তিনি বলেন, এখানে মুগো সুতো শুধু নয়, ছিপের কাঁটাও বিখ্যাত। আমি এখান থেকেই ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জিনিস কিনি।
সৌরভ কেশ নামে এক বাসিন্দা বলেন, একসময় এই শিল্পের উপর নির্ভর করেই বহু পরিবার জীবন ধারণ করেছেন। রমরমা বাজার ছিল বেশ কয়েক বছর আগে পর্যন্ত। কিন্তু, এখন পরিস্থিতি খুবই খারাপ। প্রশাসন নজর দিলে সকলের উপকার হবে। গলসি-১ বিডিও ইন্দ্রজিৎ মারিক বলেন, ওই শিল্পীরা অফিসে যোগাযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।