স্ত্রী বৃদ্ধা। ৬৬ বছর বয়স। সবচেয়ে বড় কথা তিনি জীবিত। কিন্তু তার পরেও স্বামী অন্য এক মহিলার সঙ্গে ‘সম্পর্কে’ রয়েছেন। এই অভিযোগ তুলে ৭৩ বছরের স্বামীর বিরুদ্ধে ‘বাইগ্যামি'-র (Bigamy) মামলা দায়ের করেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে দিল কর্নাটক হাইকোর্ট (Karnataka High Court)। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক থাকা মানেই তাঁকে ‘বিয়ে’ (Marriage) করা নয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকার পরেও যদি তাঁরা অন্য কাউকে বিয়ে করেন, তা হলে তা বাইগ্যামি হিসেবে গণ্য হয়। এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সাত বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে জরিমানার বিধানও রয়েছে।
অভিযোগকারী মহিলার দাবি ছিল, তাঁর স্বামী ৫১ বছর বয়সি এক মহিলাকে বিয়ে করেছেন। শুধু তাই নয়, বাবার এই সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন করেছেন তাঁদের দুই ছেলেও। তাই স্বামীর পাশাপাশি দুই ছেলের বিরুদ্ধেও ৩৪ নম্বর ধারায় (সম্মিলিত উদ্দেশ্য) নিম্ন আদালতে বাইগ্যামির মামলা ঠুকে দেন ওই মহিলা। শুরু হয় শুনানি।
এর মধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী হাইকোর্টে গিয়ে মামলা খারিজের আবেদন জানান। তাঁর দাবি ছিল, বিচারক ভুল ভাবে মামলা গ্রহণ করেছেন। আবেদনকারীর আইনজীবী আদালতে বলেন, ৪৯৪ ধারায় শুধু মাত্র স্বামী বা স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। কিন্তু তাঁদের সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। তাছাড়া তাঁর স্বামী ঠিক কবে অন্য মহিলাকে বিয়ে করেছেন, তার কোনও প্রমাণ আদালতে দাখিল করতে পারেননি অভিযোগকারী মহিলা।
তা শুনে সম্পর্কে থাকা মানেই বিয়ে করা নয় বলে জানান কর্নাটক হাইকোর্টের বিচারপতি আর নটরাজ। তিনি বলেন, ‘বিয়ের কোনও প্রমাণ নেই। সম্পর্ক থাকার অর্থ বিয়ে করা নয়। ৪৯৪ ধারায় অপরাধ হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, অভিযোগকারী মহিলার দায়িত্ব ছিল নির্দিষ্ট ভাবে প্রমাণ করা যে, তাঁর স্বামী অন্য মহিলাকে বিয়ে করেছেন। কিন্তু তিনি তা পারেননি। এর পরেই মামলা খারিজ করে দেন তিনি। নিম্ন আদালত ভুল ভাবে মামলা গ্রহণ করেছিল বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি।