কয়েক ঘণ্টার ঝড়ের দাপটে তছনছ বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিষ্ণুপুর ও পাত্রসায়েরে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন একাধিক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বসতবাড়ি। এমনকী ঝড়ের জন্য ব্যাহত হয় রেল পরিষেবাও।
রবিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই কালো মেঘে অন্ধকার হয়ে যায় চারিদিক।কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় তুমুল ঝড়-বৃষ্টি সঙ্গে বজ্রপাত। বিষ্ণুপুর থানার ভরা গ্রামে রয়েছে একটি সব্জি বাজার। হঠাৎ করেই ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা আশ্রয় নেয় ওই টিনের সেডের নীচে। টিনের শেডের একাংশ ভেঙে পড়ার কারণে স্থানীয় এক বাসিন্দা গুরুতর আহত হন। পরে বাঁকুড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বিষ্ণুপুর শহরে তুমুল ঝড়ে ভেঙে পড়ে একাধিক গাছ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক বসতবাড়ি। বিষ্ণুপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাউরিপাড়ায় এক গৃহস্থের বাড়ির উপরে ভেঙে পড়ে একটি বিশাল গাছ। সেই সময়ে ঘরের মধ্যেই ছিলেন ছয়জন। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তাঁরা। অচৈতন্য হয়ে পড়েন সন্ধ্যা বাউরি নামে মহিলা।
ঝড়ের দাপটে দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা-খড়্গপুর শাখায় রামসাগর ও বিষ্ণুপুর স্টেশনের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ে পুরুলিয়া-হাওড়া রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস। ডাউন লাইনে সমস্যা হয়। রেল সূত্রে জানা যায়, ঝড়ে ওভারহেড তার ছিঁড়ে পড়ায় ভেঙে পড়ে রুপসী বাংলা ট্রেনের প্যান্ট্রোগ্রাফ৷ প্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে ছিল রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতের পরে ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয়।
অন্য দিকে, বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়র থানার বালসি গ্রামের বাসিন্দা অভিজিৎ লাহা (৩৫) পেশায় টোটোচালক। রবিবার বিকেলে পাত্রসায়র থানার নন্দুড়ি গ্রামে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে বাড়ি ঢোকার ৫০০ মিটার আগে ঝড়ের কবলে পড়েন তিনি। ঝড়ের দাপটে উল্টে যায় টোটো। টোটোর তলায় চাপা পড়ে যান অভিজিৎ লাহা। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। তড়িঘড়ি তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় পাত্রসায়র ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।