রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেছেন— বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মিটিয়ে দেবে রাজ্য। রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া DA পুরোপুরি মিটিয়ে দেওয়া হবে। মার্চ থেকেই তা কার্যকর হবে। এই ঘোষণার পরে রাত থেকেই একটি অর্ডার কপি ঘুরতে থাকে। প্রশ্ন ওঠে, রবিবার DA নিয়ে ঘোষণার দিনই কি এই ঘোষণা কার্যকরের নির্দেশিকা জারি করেছে অর্থ দপ্তর?
ওই অর্ডারে লেখা আছে, মোট বকেয়া ডিএ-র (২৫ শতাংশ) রিলিজ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের কর্মী ও পেনশনপ্রাপকরা এই ডিএ পাবেন। সঙ্গে বকেয়া ডিএ-র ২০ শতাংশও প্রথম ইনস্টলমেন্ট হিসেবে দেওয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার কমিটির সুপারিশ মতোই এই টাকা ছাড়া হচ্ছে। ৩১ মার্চের আগে সেই টাকা ঢুকবে। ট্রেজ়ারি ও ব্যাঙ্কিং সিস্টেম মারফত এই টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে।
ওই অর্ডারের মাথায় লেখা ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, অডিট ব্রাঞ্চ, নবান্ন। অর্ডারের নীচে লেখা প্রভাতকুমার মিশ্র, প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি, ফিনান্স ডিপার্টমেন্ট। সবার প্রথম খটকা এখানেই। কারণ, প্রভাতকুমার মিশ্র ফিনান্স ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি নন, অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি। ফলে এই নোটিস কখনওই সঠিক নয়। কারও কোনও সই-ও নেই এই নোটিসে। পাশাপাশি অর্থ দপ্তরের একাধিক কর্তাও জানিয়েছেন, এমন কোনও অর্ডার হয়নি।
শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘অর্ডারটা সঠিক নয়, সেটা আমরাও শুনেছি।’ একই বক্তব্য সংগ্রামী যৌথমঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষেরও। তিনি বলেন, ‘ওই অর্ডারের কোনও বাস্তবিক ভিত্তি নেই। সরকারি ভাবেও কোথাও সেই অর্ডার খুঁজে পাওয়া যায়নি।’
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে বা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের ভুয়ো নোটিস সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই ঘোরাফেরা করে। আর এখন ভোটের বাজারে তো কথাই নেই। রাজনীতির জালে জড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেও এ ধরনের নোটিস ছাড়া হতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।