বাড়ির ঠিক উঠোনেই পড়েছিল বোমা। মিছিল থেকে ছোড়া সেই বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল ফুটফুটে মেয়েটি। উপনির্বাচনের উল্লাসে মেতে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেসের মিছিল থেকে সেই বোমা ছোড়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল। এর পর থেকেই মেয়ের বিচারের দাবিতে লাল পতাকাটা আরও শক্ত করে ধরেছিলেন মৃত মেয়ের মা সাবিনা ইয়াসমিন। সেই সাবিনাকে এ বার কালীগঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী করল সিপিএম।
বাম রাজনীতির সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত ছিল সাবিনার পরিবার। সেই আক্রোশেই তাঁদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়েছিল বলে অভযোগ উঠেছিল। সোমবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ে বাড়ি থেকেই সেই সাংবাদিক বৈঠক দেখেছেন সাবিনা। কঠিন প্ৰতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কি ভয় রয়েছে? সাবিনা বলেন, ‘প্রার্থী হয়ে এক বিন্দু ভয় করছে না। আমার মেয়েকে ওরা মেরেছে, আমি আর কেন ভয় পাব।’
শাসকদলের বিরুদ্ধে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন সাবিনা। তাঁর কথায়, ‘আমি সাধারণত ঘরের সাধারণ মেয়ে। আজ আমাকে রাস্তায় নিয়ে এসেছে ওঁরা। তাই ভালো খারাপের প্রশ্ন নেই, লড়াই করার প্রশ্ন। আমাকে লড়াই করতে হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী আলিফা আহমেদ। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী আবুল কাশেম পেয়েছিলেন ২৫,০৭৬ ভোট। উপনির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী পেয়েছিলেন ২৮,২৬২টি ভোট। এ বারের নির্বাচনের কংগ্রেসের হাত ছেড়েছে সিপিএম। সাংবাদিক বৈঠকের সময়ে বিমান বসু নাম ঘোষণার সময়ে বলেন, ‘কালীগঞ্জে প্রার্থী হচ্ছেন এক শহিদ কন্যার মা, সাবিনা ইয়াসমিন।’ মেয়ের মৃত্যুর পরে আদালতের লড়াই তো রয়েছেই, ভোটার ময়দানে কঠিন লড়াইয়ে কি জিতবেন সাবিনা? উত্তর মিলবে ৪ মে।