রবিবার তখনও ভোট ঘোষণা হয়নি। তার ঠিক আগেই বকেয়া DA মেটানোর ঘোষণা (WB DA Arrears Order) করে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। তার পরে ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। সোমবার সন্ধ্যায় এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর। কারা পাবেন, কী ভাবে মেটানো হবে? রইল বিস্তারিত।
অর্থ দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০৮-এর এপ্রিল থেকে ২০১৯-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া DA মেটাবে রাজ্য সরকার। ROPA 2009-এর আওতাভুক্ত কর্মচারীরাই এই বকেয়া টাকা পাবেন।
দু’টি ধাপে এই বকেয়া DA দেওয়া হবে। প্রথম কিস্তির টাকা মার্চে পাঠানো হবে। দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে। গ্রুপ এ, গ্রুপ বি এবং গ্রুপ সি কর্মীদের GPF অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বকেয়া DA। আর গ্রুপ ডি কর্মচারী এবং পেনশন হোল্ডারদের দেওয়া হবে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। তবে সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিং কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরে ভিত্তি করে টাকার পরিমাণ পরে ‘অ্যাডজাস্ট’ করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের মতে, বকেয়া DA মেটানো হলেও সেই টাকা এখনই সবাই হাতে পাবেন না। কারণ গ্রুপ এ, গ্রুপ বি এবং গ্রুপ সি কর্মীদের GPF অ্যাকাউন্টে টাকা থাকবে। আর তাঁরা চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার আগে পুরো টাকাটা তুলতে পারবেন না। তোলা যাবে না অ্যাডভান্স হিসেবেও। একই সঙ্গে টাকা জমা পড়ার দিন থেকে ২৪ মাস পর্যন্তও এই টাকায় হাত দেওয়া যাবে না বলে জানা গিয়েছে। একমাত্র গ্রুপ ডি কর্মচারী এবং পেনশন হোল্ডাররাই এই টাকা হাতে পাবেন। কারণ একমাত্র তাঁদেরই বকেয়া DA ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। কলকাতার বাইরের ট্রেজারি থেকে যারা পেনশন পান, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি WBiFMS-এর মাধ্যমে এই টাকা মেটানো হবে।
অর্থ দপ্তর বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, AICPI (অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইন্ডেক্স অনুযায়ী) অনুযায়ী বকেয়া DA হিসেব করা হবে। অর্থাৎ কর্মচারীদের যে বকেয়া DA আছে, তা পুরোনো হারে নয়, বরং AICPI সূচকের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত হারে গণনা করে দেওয়া হবে।
স্কুল,পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটি ইত্যাদি সরকারি সাাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের কী ভাবে বকেয়া DA দেওয়া হবে, তা এখনও জানা যায়নি। ২০১৬ থেকে ২০১৯-এর মধ্যে যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরাও এই বকেয়া পাবেন। এর জন্য তাঁদের শেষ হেড অফিসের (HOO) কাছে আবেদন করতে হবে।