১ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে পরিস্রুত জল পৌঁছবে কবে? চাপানউতোর
বর্তমান | ১৬ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: একই পুরসভা অথচ দুই চিত্র। সল্টলেকের বাসিন্দারা পরিস্রুত, মিষ্টি পানীয় জল পান। কিন্তু রাজারহাট-বাগুইআটির বাসিন্দাদের কপালে জোটে ভূগর্ভস্থ জল। ভোট আসে, ভোট যায়। কিন্তু পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছয় না সেখানে। আবার বিধানসভা নির্বাচন এসে হাজির। ভোট ঘোষণা হয়েছে রবিবার। কিন্তু ১ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছবে কবে সে প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব নেই। এ ইস্যুতে ভোটের মুখে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কবে জল আসবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারাও। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রায় ১১ বছর আগে রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা এবং বিধাননগর পুরসভা সংযুক্ত হয়ে বিধাননগর কর্পোরেশন তৈরি হয়েছে। অথচ এখনও পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রাজারহাট-বাগুইআটি এলাকার বাসিন্দারা? শাসকদলের দাবি, বড় প্রকল্প। ১৪টি ওভারহেড ট্যাঙ্ক, ৪টি আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার নির্মাণ সহ পরিকাঠামোর কাজ চলছে। কাজ মিটলেই চালু হবে পরিষেবা।
বিধাননগরের ১ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে থাকে কয়েক লক্ষ মানুষ। বর্তমানে তাঁরা সকলেই ভূগর্ভস্থ পানীয় জল ব্যবহার করে। কিন্তু ওই এলাকার বাসিন্দারা কেন সল্টলেকের মতো পরিস্রুত পানীয় জল পাবে না, সেই প্রশ্ন ওঠে। পুর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ দেরি করে শুরু হল কেন? তদারকি করা দরকার। প্রতিবার ভোট এলে জলের ইস্যু সামনে আসে। কিন্তু মানুষ জল পায় না! এ বিষয়ে নিউটাউন-বিধাননগরের নেতা বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য অনুপম ঘোষ বলেন, ‘রাজারহাট-বাগুইআটির বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ পরিস্রুত পানীয় জল থেকে বঞ্চিত। প্রকল্পের কাজে গড়িমসি চলছে। কেন এখনও কাজ শেষ হল না?’ রাজারহাটের সিপিএম নেতা শুভজিৎ দাশগুপ্ত বলেন, ‘কবে কাজ হবে, কবে এলাকার মানুষ জল পাবেন, কেউ জানে না। ভোট এসেছে। এখন খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এলাকার বহু মানুষ জল কিনে খান। গত ১৫ বছরে পরিস্রত পানীয় জলের প্রকল্প হল না? আর কবে হবে?’ বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ (জল) তৃণমূল কংগ্রেসের তুলসী সিনহা রায় বলেন, ‘অনেক বড় প্রকল্প। ১ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডে পরিস্রুত পানীয় জলের পরিকাঠামোর জন্য প্রথম পর্যায়ে ২৪১ কোটি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ৯১ কোটি অর্থাৎ প্রায় ৩৩২ কোটি টাকা খরচ হবে। পুরোদমে কাজ চলছে। বিরোধীরা রাজনীতি করবে। কিন্তু আমরা সবসময় মানুষের উন্নয়নের কথাই চিন্তা করি। তাই এত বড়ো প্রকল্প আমরাই নিয়ে এসেছি।’