• অপসারিত শীর্ষকর্তাদের নির্বাচনের কোনও প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত রাখা যাবে না, নির্দেশ কমিশনের
    আজ তক | ১৭ মার্চ ২০২৬
  • Election Commissioner Direction:এর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সেই কথা রাখল কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটকে রক্তপাতহীন এবং প্রভাবমুক্ত করতে সোমবার রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরে এক নজিরবিহীন ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালাল নির্বাচন কমিশন।

    সরিয়ে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশ প্রসাদ মিনা, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি) পীযূষ পাণ্ডে এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপে নবান্নের অলিন্দে যেমন কম্পন শুরু হয়েছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।

    কমিশন সূত্রে সাফ জানানো হয়েছে, এই অপসারিত কর্তাদের নির্বাচনের কোনও প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত রাখা যাবে না। রবিবারই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাংলায় এবার ভোট হবে পেশ পেশিশক্তি ও হিংসামুক্ত। সেই উদ্দেশ্য সফল করতেই এই শীর্ষস্তরের রদবদল বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশনের আধিকারিকদের মতে, রাজ্যের ভোট প্রস্তুতির পর্যালোচনার পরই এই প্রশাসনিক রদবদল অনিবার্য হয়ে পড়েছিল। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিলের মহাযুদ্ধের আগে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ করাই এখন দিল্লির মূল লক্ষ্য।

    এই গণ-বদলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যুদ্ধংদেহী মেজাজ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল এই ঘটনাকে ‘বিজেপির আতঙ্ক’ এবং ‘গণতান্ত্রিক পরাজয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি ও বাম শিবির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে প্রথম ধাপ’ বলে অভিহিত করেছে। আপাতত অপসারিত কর্তাদের জায়গায় নতুন কারা আসছেন, সেই নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে ভোটের মুখে প্রশাসনের শিরদাঁড়া বদলে দিয়ে কমিশন যে কড়া বার্তা দিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

     
  • Link to this news (আজ তক)